বিছনাকান্দি এলাকায় ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত রহমান আলী জনতার হাতে আটক!

প্রকাশিত: ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০

বিছনাকান্দি এলাকায় ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত রহমান আলী জনতার হাতে আটক!

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাটঃ
সিলেটের গোয়াইনঘাট পর্যটন এলাকা বিছনাকান্দিতে স্কুল পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থী বিছনাকান্দি কোপার বাজার উচ্চবিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্রী বলে জানা গেছে। ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত রহমান আলী (১৭) স্থানীয় বিছনাকান্দি এলাকার বগাই (কোপা) গ্রামের আলাউদ্দিন আলাই মিয়ার পুত্র। অভিযোগকারী
ওই শিক্ষার্থীর মা-বাবা জানান,৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার)দিবাগত রাত( বাদ এশা) হঠাৎ তাদের মেয়েকে ঘরে না দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করে বাড়ির অন্যান্য ঘরে খোজাখুজি করেন। বাড়ির পার্শ্ববর্তী ঘর গুলোতে মেয়েকে না পেয়ে মেয়েকে বাহিরে বের হন খোঁজতে । এসময় ওই শিক্ষার্থীর মায়ের সাথে ছিলেন ভিকটিমের চাচাতো ভাই শরিফ উদ্দিন। ঘর থেকে বাহির হয়ে ওই শিক্ষার্থীর মা প্রাকৃতিক কাজের উদ্দেশ্যে টয়লেটে যান। টয়লেটের সামনে পৌঁছে দেখতে পান ওই ছাত্রী ও ধর্ষক রহমান আলী অনৈতিক কাজে লিপ্ত রয়েছেন। তিনি বিষয়টি দেখে চিৎকার শুরু করলে শিক্ষার্থীর চাচাতো ভাই শরিফ উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি সরাসরি দেখে ফেলেন। অতএব পর বাড়ির লোকজনের সহায়তায় রহমান আলীকে পাকড়ে ধরে ওই মেয়ের ঘরে বেঁধে রাখেন। পরে রুস্তুমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাব উদ্দিন (সাবই),ফারুক আহমদ, পাপলু আহমদ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য আমিনা বেগমকে অবগত করেন। খবর পেয়ে রাত ১০ টার দিকে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হন স্থানীয় মুরব্বি আব্দুন নূর সরকার। আব্দুন নূর সরকার উপস্থিত হয়ে ধর্ষক রহমান আলীর বাঁধন ছেড়ে দিয়ে সামাজিক ভাবে উক্ত বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেন। ওই শিক্ষার্থীর মা-বাবা ও আত্নীয় স্বজনেরা উক্ত বিষয়ে রাজি না হয়ে স্থানীয় মুরব্বি আব্দুন নূর সরকারের উপর চওড়া হন। ফলে স্থানীয় মুরব্বি আব্দুন নূর সরকার ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাব উদ্দিন (সাবই)। তিনি উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে বিষয়টি স্থানীয় ভাবে শেষ না হলে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়ে চলেযান। সোমবার রাত ২ টার দিকে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হন রুস্তুমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফারুক আহমদ, পাপলু আহমদ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য আমিনা বেগম। উল্লিখিত জনপ্রতিনিধিরা ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি স্থানীয় ভাবে সমাধানের জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী ও ধর্ষক রহমান আলীর আত্মীয় স্বজনদের অনুরোধ জানান। এবং ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১০ টার সময় স্থানীয় ভাবে সালিসি বৈঠকে বসার সময় নির্ধারণ করেন। ওই শিক্ষার্থী ও ধর্ষক রহমান আলীকে ওই রাত পাহারা দেয়ার জন্য নারী সদস্য আমিনা বেগম ও গ্রাম পুলিশ গিয়াস উদ্দিন ঘটনা স্থলে রেখে পুরুষ জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ বাড়ীতে চলে যান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার)দুপুর ২ টায় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনা স্থলে উপস্থিত হলেও ধর্ষক রহমান আলীর অভিভাবকেরা উপস্থিত হননি বলে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থীর মা-বাবা। এ বিষয়ে ভিকটিম ওই শিক্ষার্থী এ প্রতিবেদককে মোবাইল ফোনে জানায়, বগাইয়া (কুপা) গ্রামের আলাউদ্দিন (আলাই) মিয়ার ছেলে রহমান আলীর সাথে গত এক বছর থেকে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। রহমান আলী বিবাহ করবে বলে তাকে আশ্বস্ত করে গত ৬ মাস থেকে নিয়মিত ভাবে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে। ওই শিক্ষার্থী রহমান আলীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায় বলে জানিয়েছে। এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদ বলেন, গোয়াইনঘাট থানা এলাকায় কোন শিক্ষার্থী ধর্ষণের বিষয়ে এখনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ