অনুপ্রবেশকারী ও বিবাহিতদের দখলে ৩ নং পূর্ব জাফলং ছাত্রলীগ : ত্যাগী কর্মীরা পদ বঞ্চিত

প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

অনুপ্রবেশকারী ও বিবাহিতদের দখলে ৩ নং পূর্ব জাফলং ছাত্রলীগ : ত্যাগী কর্মীরা পদ বঞ্চিত

ডেস্ক রিপোর্ট ::

গোয়াইনঘাট উপজেলার ৩ নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি যেনো বিতর্কের শেষ নেই। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখে গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগ কতৃক ঘোষিত ৩ নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সভাপতি হলেন ইউসুফ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমদ সাজন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনিত হন আব্দুর রাজ্জাক। কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই ত্যাগী তৃণমূল ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে দেখা দেয় নানান অসন্তোষ ও বিতর্কের। তৃণমূল ছাত্রলীগের কর্মীদের কাছে অসন্তোষ ও এই কমিটি নিয়ে বিতর্কের কারন জানতে চাইলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। তারা বলেন যে এই কমিটি সম্পূর্ণ বিবাহিত ও অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে সাজানো হয়েছে এবং এই কমিটিতে প্রকৃত ত্যাগী ছাত্রলীগ কর্মীদের কোনো মূল্যায়ন দেয়া হয়নি । এর কারন জানিতে চাইলে তারা জানান যে বর্তমান কমিটির সভাপতি হিসেবে যিনি দায়িত্ব পালন করছেন তিনি একজন বিবাহিত এবং ইতোমধ্যেই তার ছাত্রজীবনের ইতি ঘটেছে যা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগে থাকতে হলে একজন কর্মীর ছাত্রত্ব এবং তাকে অবিবাহিত অবস্থায় থাকতে হবে। শুধু সভাপতি ইউসুফ আহমদ নয় এই কমিটিতে বিবাহিত আরো ২ জন রয়েছেন। তারা হলেন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদ আলম রাজ্জাক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা জানান যে, এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমদ সাজন একজন সাবেক ছাত্রদল কর্মী। তিনি আরো জানান যে, সাজন ২০১৬ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলো। পরবর্তীতে ছাত্রলীগে যোগদান করে এখন অল্পদিনেই ছাত্রলীগে বড় দায়িত্ব দখল করে বসে আছে। এই কমিটি অনুমোদিত হওয়ার সাথে সাথে এরকম বেমানান ও গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক কমিটি দেখে একই কমিটিতে স্থান পাওয়া সদস্য কামরান আহমদ ও রুবেল আহমদ সেচ্ছায় এই বিতর্কিত কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন।

পরিশেষে ৩ নং পূর্ব জাফলং ছাত্রলীগ এর পদ বঞ্চিত তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এইরকম বিতর্কিত ও গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক কমিটি বাতিল করে প্রকৃত ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন দিয়ে মূল ধারার ছাত্রলীগ নিয়ে দ্রুত কমিটি গঠন করার জন্য জেলা ছাত্রলীগ নেত্বৃবৃন্দের কাছে জোর দাবী জানান।

বিতর্কিত সভাপতি ইউসুফ বলেন পারিবারিক সমস্যার কারনে আমি বিয়ে করেছি। আমি এখনও লেখাপাড়া করছি। আমার এখনও ছাত্রত্ব আছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ