জাফলং সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাচ্ছে দেশের সম্পদ, বিজিবি-পুলিশের নামে লাখ লাখ টাকা আদায়

প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

জাফলং সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাচ্ছে দেশের সম্পদ, বিজিবি-পুলিশের নামে লাখ লাখ টাকা আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ও তামাবিলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে এই মটরশুঁটির পাচার। ভারতে এই পণ্যটির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিগত কয়েক মাস ধরে মটরশুঁটির পাচার বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। তাই দেশী সম্পদ নির্বিঘ্নেই পাচার করছে চোরাকারবারিরা। আর এ সকল চোরাকারবারিদের নেতৃত্ব দিচ্ছে পুলিশ-বিজিবির অবৈধ টাকার লাইনম্যান মুসলিম নগর গ্রামের বাসিন্ধা যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদপুর পাথর টিলা এলাকার বাসিন্ধা আসু মিয়া ও গুচ্ছ গ্রামের আবুল কালাম আজাদ। এই চক্রটি পুলিশ-বিজিবির নামে দৈনিক রাতে লাখ লাখ আদায় করছে। এই চক্রে সাথে রয়েছেন, সিদ্দেক, সামছুল, সামছু ও রুবেল। এদের মধ্যে রুবেল বর্তমানের কারাগারে রয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুরী বাজার, তামাবিল স্থলবন্দর, সোনাটিলা, গুচ্ছগ্রাম, সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের নিচে মালেকের ঘাট, বল্লাঘাট জিরো পয়েন্ট, লামা পুঞ্জি, লন্ডনী বাজার সীমান্ত দিয়ে অবাধে ভারতে পাচার হচ্ছে মটরশুঁটির, দেশী সুপারি, সাদা পাতা, শুটকি, প্লাস্টিক পণ্য। আর ভারত থেকে দেশে আসছে গরু-মহিষ, কসমেটিক্স, মাদক ও সিগারেট ইত্যদি। এই ভারতীয় কসমেটিকসের সয়লাভ জাফলং পিকনিক সেন্টারের দোকান গুলো। কোন দিন এই দোকান গুলোতে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালায়নি। তাও আবার দোকান গুলো বিজিবি ক্যাম্পের সামনে।

ভারতী পণ্যের বিরুদ্ধে পুলিশ-বিজিবি নিরব ভূমিকা পালন করলেও র‌্যাব-৯ এর অভিযানে সর্বদাই আটক হচ্ছে ভারত থেকে দেশে আসা কসমেটিকস্, মাদক ও সিগারেট। কিন্তু এই লাইনম্যান চক্রের বিরুদ্ধে কোন ধরণের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। যার ফলে এই চক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা স্থানীয় বিজিবি-পুলিশের হয়ে চোরাকারবারিদের নিকট থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করছে তারা।

লাইনম্যান জাহাঙ্গীর, আসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ তারা তাদের নিজেস্ব লোকের মাধ্যমে ও তারা নিজেরা গিয়ে রাতের আধারে চোরাকারবারিদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করে। তাদেরকে টাকা না দিলে তারা বিজিবি ও পুলিশ দিয়ে মালামাল আটক করিয়ে দেয় এমন অভিযোগ চোরাকারবারিদের। প্রতিদিন রাত ৩টা থেকে শুরু দেশী মাল ভারতে পাচার। আর ভোর হলেই সেই লেবার গণ দেশে ফেরার সময় শুরু করেন ভারতীয় মালামাল পাচার। এভাবেই চলছে জাফলং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মালামাল পাচারের হিড়িক।

স্থানীয়রা জানান, এই লাইনম্যান চক্রের প্রধান হলেন ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সু-সম্পর্ক রেখে এবং তাদের কাছ থেকে ভারতে মালামাল পাচারের লাইন নিয়ে এ সকল কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। অপরজন হলেন আসু মিয়া, যিনি গোয়াইনঘাট থানায় ওসি দেলোয়ার ও আব্দুল হাইয়ের আমলে কয়েক বার গ্রেফতার হয়েছেন এই চোরাচালানের দায়ে। কিন্তু যত বার তিনি আটক হয়েছেন ততবার তার লোকজন ওসিদের সাথে রহম দহম করে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন। সম্প্রতি তার ছেলেরা ট্যুরিস্ট-পুলিশের উপর হামলা করে। তার এই সন্ত্রাস ছেলেদের ভয়ে এলাকার কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেনি। অন্যজন হলে নামধারী সংবাদকর্মী ও যুবলীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ। তিনি মানুষকে বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে এমন কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন। তার আবার কিছু অসাধু প্রশাসনের লোকজনের সাথে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এসকল চাপাবাজরা জাফলং এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা চাপাজি করে পুলিশ-বিজিবির কাছ থেকে লাইন নিয়ে চোরাকারবারিদের নিটক থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ভারতে পাচার করছে দেশের মূল্যবান সম্পদ ও দেশে আসছে ভারতী মাদক দ্রব্য।

ভারতীয় চোরাচালান বন্ধে ও বিজিবি-পুলিশের অবৈধ টাকার লাইনম্যান জাহাঙ্গীর, আসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আশু হস্থক্ষেপ কামনা করছেন জাফলংয়ের সচেতন মহল।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ