শুভ জন্মদিন, শুভকামনা বাঙালির আশার বাতিঘর

প্রকাশিত: ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

শুভ জন্মদিন, শুভকামনা বাঙালির আশার বাতিঘর

কে.এ.রাহাত-
শুভ জন্মদিনে শুভকামনা। মধুমতি নদী বিধৌত গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া গ্রাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান। এই নিভৃত পল্লীতেই ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। মাতার নাম বঙ্গবমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। তিনি বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। শৈশব কৈশোর কেটেছে বাইগার নদীর তীরে টুঙ্গীপাড়ায় বাঙালির চিরায়ত গ্রামীণ পরিবেশে, দাদা-দাদির কোলে-পিঠে। পিতা শেখ মুজিবুর রহমান তখন জেলে বন্দি, রাজরোষ আর জেল-জুলুম ছিল তাঁর নিত্য সহচর। রাজনৈতিক আন্দোলন এবং রাজনীতি নিয়েই শেখ মুজিবুর রহমানের দিন-রাত্রি, যাপিত জীবন। বাঙালির মুক্তি আন্দোলনে ব্যস্ত পিতার দেখা পেতেন কদাচিৎ। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে শেখ হাসিনা ছিলেন জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার কনিষ্ঠ ভাই-বোন হলেন- শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেল। শেখ হাসিনা গ্রামবাংলার ধূলোমাটি আর সাধারণ মানুষের সাথেই বেড়ে উঠেছেন। গ্রামের সাথে তাই তাঁর নিবিড় সম্পর্ক।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নব পর্যায়ের বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা। হিমাদ্রী শিখর সফলতার মূর্ত-স্মারক, উন্নয়নের কান্ডারি। উন্নত সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার। বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার একান্ত বিশ্বস্ত ঠিকানা, বাঙালির বিশ্বজয়ের স্বপ্নসারথী। বিশ্বরাজনীতির উজ্জ্বলতম প্রভা, বিশ্ব পরিমন্ডলে অনগ্রসর জাতি-দেশ-জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র, বিশ্বনন্দিত নেতা। বারবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ‘নীলকণ্ঠ পাখি’, মৃত্যুঞ্জয়ী মুক্তমানবী। তিমির হননের অভিযাত্রী, মাদার অব হিউম্যানিটি। আত্মশক্তি-সমৃদ্ধ সত্য-সাধক। প্রগতি-উন্নয়ন শান্তি ও সমৃদ্ধির সুনির্মল- মোহনা। এক কথায় বলতে গেলে সমুদ্র সমান অর্জনে সমৃদ্ধ শেখ হাসিনার কর্মময় জীবন।

পাকিস্তানের জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে, বার বার মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে ১৯৭১ সালে অধিকারবঞ্চিত বাঙালিদের যেভাবে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ঠিক তেমনিভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের যেখানেই মানুষ তার অধিকারবঞ্চিত, যেখানে শোষণ আর নির্যাতনের শিকার মানুষ, নিষ্পেষিত মানবতা; সেখানেই শান্তির নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু সেই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভ জন্মদিন আজ। দাদা ও দাদীর স্নেহ-আশীর্বাদ নিয়ে তার জীবন শুরু হয়। দাদা তার নাম রাখেন ‘হাসিনা’। মা তাকে বুকের ভেতর মমতায় জড়িয়ে রাখতেন। জন্মের খবর পেয়ে পিতা একদিন হঠাৎ বাড়ি এসে মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে ‘হাচুমণি’ ডেকে আনন্দ প্রকাশ করে কপালে চুম্বন এঁকে দিলেন। সেদিনই তার ভাগ্যের লিখন তৈরি হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর সেই আদরের নয়নমণি ছোট্ট ‘হাচুমণি’ একদিন বড় হয়ে বাংলাদেশের জনগণের প্রিয় নেত্রী হয়ে উঠলেন এবং ধীরে ধীরে বিশ্বনেত্রীর মর্যাদায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন। গ্রামের নদী-নালা-খাল-বিলের স্রোতের শব্দ এবং সবুজ প্রকৃতির গন্ধ মেখে তার শৈশব কাটে। সেখানেই শিক্ষা জীবন শুরু হয়। পরে ঢাকায় এস স্কুলে, কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। মা ফজিলাতুননেছা রেণুর ছায়াসঙ্গী হয়ে পিতার রাজনৈতিক জীবনকে খুব ঘনিষ্ঠভাবে দেখেন এবং নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে একজন আদর্শময়ী হিসেবে গড়ে তোলেন।

মানবতার জননী শেখ হাসিনার জন্মদিনে কোটি বাঙালিসহ বিশ্ববাসী জানাচ্ছেন শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ করে মোদির শুভেচ্ছাবার্তা হস্তান্তর করেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ। এসময় তার পক্ষ থেকে ফুলের তোড়াও শেখ হাসিনাকে উপহার দেন রীভা গাঙ্গুলি।

শেখ হাসিনার জন্মদিনে মোদির শুভেচ্ছা

শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির কান্ডারী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন তার মেধা, সাহস ও সততার কারণে। বর্তমান বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতীক বলা হয় তাকে। বাঙালির জাতি সত্ত্বা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা নস্যাৎ করতে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। তাদের সঙ্গে মহা উৎসাহে যোগ দিয়েছিল ক্ষমতালোভী ও সুবিধাভোগী রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সমাজ। বঙ্গবন্ধুর বাঙালি জাতি তখন ছিল অসহায়, নির্যাতিত, অপমানিত, নিপীড়িত। ধর্মের দোহাই দিয়ে বাঙালির চিরশত্রæ পাকিস্তানের স্বৈর সামরিক শাসকরা দেশকে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন গর্তের ভেতর ফেলে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে ভেঙ্গে চুরমার করে এক জঙ্গী ও সা¤প্রদায়িক শাসন কায়েমের ভিত রচনা করে। কিন্তু সেইসব লোভী ও বিশ্বাসঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর পবিত্র রক্ত মেখে নিজেরাই হয়েছিল ঘাতক ও খুনী, তাই সেই ভিত শক্তিশালী হতে পারেনি। তাদের পাপী হৃদয়ের লালসা চরিতার্থ করতে পারেনি। খুনী মোশতাক-জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদ বাঙালির অস্তিত্বকে মুছে ফেলার অপচেষ্টার প্রয়াস চালিয়েছিল। এসব তো আমরা চোখের সামনে দেখেছি। তাদের উচ্ছিষ্টভোগী লোভীরা কেউ কেউ তলে তলে তাদেরই সমর্থন করে গিয়েছে। বাঙালি বাংলাদেশ বিশ্বে তখন মাথা নীচু করেই ছিল। ক্যূ-পাল্টা ক্যূ, গুম ও হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা, গণতন্ত্র এবং রাজনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছিল। সুশাসনকে বুটের তলায় নিস্পেষিত করে দুর্নীতি ও দু:শাসনের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। একদিকে মুষ্টিমেয় উচ্ছিষ্টভোগীরা ধনী থেকে ধনী হচ্ছিল, আর একদিকে গরীব আরও গরীব হয়ে পড়ছিল। দারিদ্র -দুর্ভিক্ষ অভাব অনটনে মানুষ আরও অসহায় হয়ে পড়ছিল। মুক্ত বাতাস নেবার মত পরিবেশ ছিল না দেশে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেধা-মনন, সততা, নিষ্ঠা, যোগ্যতা, প্রাজ্ঞতা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদারমুক্ত গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে। এক সময়ের কথিত তলাবিহীন ঝুড়ি দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত যে বাংলাদেশকে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করতে হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণমুখী নেতৃত্বে সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ