জৈন্তাপুর সীমান্তে কিছুতেই থামছে না বেন্ডটিস করিমের চোরাচালান, আসছে গরু-মাদক

প্রকাশিত: ১০:১১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২০

জৈন্তাপুর সীমান্তে কিছুতেই থামছে না বেন্ডটিস করিমের চোরাচালান, আসছে গরু-মাদক

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ঘিলাতৈল, টিপরাখলা সীমান্ত দিয়ে বেন্ডটিস করিম এর নেতৃত্বে দেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় চোরাই গরু ও মাদক। শুক্রবার জৈন্তাপুর থানার অভিযানের ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মটরশুঁটি এনে জৈন্তাপুর এলাকায় মজুদ করা হয়। এমন খবরে থানা পুলিশ ট্রাক ভর্তি মটরশুঁটি আটক করেন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুইটি মামলাতে মোট ১,১০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। যার ফলে বন্ধ রয়েছে মটরশুঁটি পাচার। তবে গরু-মাদকের চালান বন্ধ হচ্ছে না। কিন্তু ধরাছোয়ার বাহিরে রয়েছেন সীমান্তের রাজা চোরাচালানকারীদের গডফাদার আলোচিত কোটিপতি বেন্ডটিস করিম। নিজপাট ইউনিয়নের ঘিলাতৈল গ্রামের বাসিন্ধা মছদ্দর আলীর ছেলে বেন্ডটিস করিম। তাকে মানুষ সীমান্তের রাজা হিসাবে চিনেন।

একটি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঘিলাতৈল, টিপরাখলা সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার গভীর রাতে দেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু ও মাদকের বড় চালান। আর এই দুই সীমান্তে দায়িত্বে রয়েছেন বেন্ডটিস করিম এর লাইনম্যান বাইরা খেল গ্রামের বাসিন্ধা বেলাল। তাদের পাহরায় নিজপাট ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য মনসুর মেম্বারসহ আরও শীর্ষ চোরাকারবারীদের একটি বড় গরুর চালান দেশে আসছে। সাথে রয়েছে মাদকের চালান। মটরশুঁটির বদলে ভারতে যাচ্ছে দেশী সুপারী। বেন্ডটিস করিম কিন্ত রাজার বেশে তার রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে।সে কোন কিছুর পরোয়া করছে না।

জৈন্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ মোহসিন আলী ও ইন্সপেক্টর তদন্ত ওসি ওমর ফারুক বেন্ডটিস করিম এর উপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন ঠিকই। তবে তাকে আটক না করা পর্যন্ত সে কোন কিছু তোয়াক্কা করবে না। স্থানীয় এলাকাবাসী বেন্ডটিস করিম এর উপর একটি গ্রাম্য সালিশ দায়ের করেছেন এবং সেখানে বেন্ডটিস করিমের উপর উত্তেজিত হয়ে তাকে মারধর করার চেষ্টাও করেন কিছু লোক। কিন্তু বেন্ডটিস করিমের একটি বিশাল চোরাচালান চক্র থাকার কারণে এলকার লোকজন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তার এমন কর্মকান্ডের দায়ে এলাকার মানুষজন অতিষ্ঠ হয়েছেন। যেকোন সময় এলাকাবাসী তাকে গণধুলাই দিয়ে পুলিশে দিতে পারেন।

এত কিছুর পরও থামছে না বেন্ডটিস করিমের চোরাই চালান। রাতের আঁধারে আসছে গুরু-মাদকের বড় চালান। এই দুই সীমান্তের দায়িত্বে থাকা বিলাল তিনি চোরাচালান নিয়ন্ত্রন করছেন। আর বিজিবি-পুলিশকে ম্যানেজ করছেন বেন্ডটিস করিম তিনি নিজেই।

এদিকে করিমের চোরাকারবারীর সকল অপকর্ম ক্রাইম সিলেট অনলাইন নউজ পোর্টালে একাধীক সংবাদ প্রকাশ হওয়াতে করিমের হয়ে কিছু দালাল সাংবাদিক টাকার বিনিময়ে তাকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এখন সে ওই দালাল সাংবাদিকদের ছত্রছায়ায়। এরই মধ্যে এই দালালরা বিভিন্ন পত্রিকায় ও ফেসবুক আইডিতে একজন চোরাচালান চক্রের গডফাদার এর প্রতিবাদ প্রকাশ করছে। এই সাংবাদিকদের এহেন কর্মকান্ডে জৈন্তাপুর উপজেলা জুড়ে নিন্দার ঝড় শুরু হয়েছে। সাংবাদিকরা চোরাকারবারীদের গডফাদারকে একজন ব্যবসায়ী বলে প্রতিবাদ প্রকাশ করছে। উপজেলাবাসীর চোখে কি ভাবে ধোলো দিলেন ওই সাংবাদিকরা। বেন্ডটিস করিমকে মানুষ এখন সীমান্তের রাজা হিসাবে চিনেন। কিন্ত প্রকাশ্যে দিনের আলোতে করিমের নেতৃত্বে ভারত থেকে দেশে আসছে চোরাই মহিষ। এছাড়া করিমের সাথে একাধীক চোরাচালানকারীদের ফোন আলাপ ও টাকা উত্তোলনের ভিডিও ক্রাইম সিলেট অফিসে জমা রয়েছে।

বেন্ডটিস করিম তার একটি চোরাচালান চক্র নিয়ে সীমান্ত এলাকায় ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েক করছে। বিনিময়ে বেন্ডটিস করিম তার বাহিনীর লোকজন নিয়ে জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে দিনের আলোতে ও রাতের আধাঁরে টাকার বিনিময় বুঙ্গার মাল পাচার করছে। কিন্তু নিরব ভুমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন। যার ফলে বেন্ডটিস করিম এখন জৈন্তাপুর সীমান্তের রাজা। জৈন্তাপুরবাসী তার চলাফেরা দেখে অবাক। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আর সেই বুঙ্গার লাইন থেকে করিম এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। বর্তমানে জৈন্তাপুর উপজেলায় যার রয়েছে বিলাশ বহুল দুই বাড়ি ও একাধীক গাড়ী সহ অধিক জমি-জমা। এখন তিনি সীমান্তের রাজা। এলাকার লোকজন তাকে সীমান্তের রাজা হিসাবে চিনেন। এছাড়া ক্রাইম সিলেট অফিসে চোরাচালানের সকল তথ্য রয়েছে। কি করো ওই সাংবাদিকরা তাকে ব্যবসায়ী প্রমাণ করবেন। এদের মতো দালাল সাংবাদিকদের কারণে এই মহান পেশা কলুষিত হচ্ছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ