ভাঙাচোরা নগরী, দুর্ভোগ আর কতকাল?

প্রকাশিত: ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২০

ভাঙাচোরা নগরী, দুর্ভোগ আর কতকাল?

সিলেট নগরের প্রায় প্রতিটি সড়কই এখনই ভাঙাচোরা। চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে এসব সড়ক। সড়কগুলো সংস্কার ও সম্প্রসারণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চললেও তা যেনো কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। যেনো অনন্তকাল ধরে চলছে সিলেট নগরের সড়কের সংস্কার কাজ। ফলে নগরবাসীর দুর্ভোগও দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।

ভাঙাচোড়া সড়কের সাথে যুক্ত হয়েছে খোঁড়াখুড়ি আর সংস্কার কাজের উৎপাত। সড়কের পাশে ফেলে রাখা রয়েছে মাটি, বালু, পাথর। এসব কারণে বেড়েছে যানজট। বেড়েছে দুর্ভোগও।

সিলেট নগরের প্রধানতম সড়ক জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা সড়ক। এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ চলছে। প্রথমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরে সড়ক সম্প্রসারণের পর এখন চলছে বিদ্যুৎ লাইন ভূগর্ভস্থ করার কাজ। এই কাজেও দীর্ঘসূত্রিতা দেখা গেছে। ফলে সড়কটি প্রায় চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে। এই সড়কে দিনভর লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। একই অবস্থা নগরের চৌহাট্টা-আম্বরখানা সড়ক, মিরের ময়দান (ব্লু বার্ড স্কুলের সামনে থেকে)- সুবিদবাজার সড়ক, আম্বরখানা-মদিনা মার্কেট সড়ক, জিন্দাবাজার-জেল রোড-টিলাগড় সড়ক, কুমারপাড়া-নাইরপুল সড়ক, নয়াসড়ক-কাজিটুলা সড়কসহ নগরীর বেশিরভাগ সড়কেরই।

প্রায় দুই বছর আগে এসব সড়কের সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়। অনেক সড়কের অর্ধেক সংস্কার কাজের পর ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে প্রায় দু্ই বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কারের বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশেনর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, করোনা ও অতিবৃষ্টির কারণে সড়ক সংস্কারে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এসব কারণে দীর্ঘদিন কাজ করা যায়নি। এখন দ্রুতগতিতে সব সড়কের কাজ চলছে। আশা করছি শীঘ্রই সংস্কার কাজ শেষ হবে। কাজ শেষ হলে নগরী নতুন রূপ পাবে।

শনিবার দুপুরে নগরীর আম্বরখানা-মদিনা মার্কেট সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়কজুড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে আটকা পড়ছে অনেক যানবাহন। কয়েকটি গর্তে বৃষ্টির পানিও জমে আছে। সড়ক ভাঙা থাকায় দেখা দিয়েছে দীর্ঘ যানজট।

একই সময়ে মিরের ময়দান-সুবিদ বাজার সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক সম্প্রসারণের কাজ অর্ধেক সম্পন্নের পর ফেলে রাখা হয়েছে। সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। পুরো সড়কেরই পিচডালা উঠে গেছে। সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী।

জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে এই সড়ক সম্প্রসারণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ শুরু হয। সম্প্রসারণ করে একমুখী সড়ককে ডাবল লেন করা হয়। তবে সম্প্রসারণ হলেও সংস্কার হয়নি সড়কের। বরং সম্প্রসারেণ কাজের কারণে একেবারে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে এই সড়ক।

সন্ধ্যায় নগরীর জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা সড়কে এসে দেখা যায় দীর্ঘ যানজট। রিকশা-অটোরিকশায় একেবারে জট পাকিয়ে আছে। এই সড়ক খুঁড়ে মািটির নিচ দিয়ে বিদ্যুৎলাইন নেওয়া হচ্ছে। সড়কের খুঁড়ে তোলা মাটি ও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে সড়কের উপর। ফলে যানজট আরও বেড়েছে।

এই সড়ক সম্প্রসারণের কাজও শুরু হয় বছরখানেক আগে। একমূখী এই সড়ককে ডাবল লেন করা হয়। তবে এতে যানজট আরও বেড়েছে।

নগরের ধোপাদীঘিরপাড়, সোবহানীঘাট, কুমারপাড়া, শাহী ঈদগাহ, পাঠানটুলা, আম্বরখানা, চৌহাট্টা, জেলরোড, জিন্দাবাজার, বন্দরসহ অনেকগুলো সড়ক ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।

জানা যায়, সিলেটে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিলো ২০১৮ সালে। জিন্দাজার-চৌহাট্টা সড়কের বিদ্যুৎ লাইন ভূগর্ভস্থ করার কাজও শেষ হয় চলতি বছরের শুরুতে। তবে এখন আবার রাস্বতা খুড়ে আরেকটি বিকল্প লাইন টানছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ফলে প্রায় বছরজুড়ে এই সড়কে চলছে খোঁড়াখুড়ি। গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে সড়ক খুঁড়ে বিকল্প বিদ্যুৎ লাইন টানার কাজ শুরু করে বিদুৎ বিভাগ। এখনও যা চলমান রয়েছে।

এ ব্যাপারে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পল্লবী জামান বলেন, মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতের একটি বিকল্প লাইন টানার কারণে কাজটি দীর্ঘ হচ্ছে। দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে। তবে শীঘ্রই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

খানাখন্দে ভরা নগরের ভাঙাচোরা সড়কের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন পথচারী, যানবাহন চালক ও যাত্রীরা। এসব সড়কে যানবাহন চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয় চালকদের। সড়কেই এই বেহাল দশার কারণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় রিশকা, সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন চালকরা।

সিএনজি অটোরিকশা চালক শামছু মিয়া বলেন, নগরীর কোনো সড়কে গাড়ি চালিয়ে শান্তি পাওয়া যায় না। প্রায় সব সড়কেই কমবেশি ভাঙা। এই ভাঙা সড়কের কারণে যানবাহন চালকদের বেশি ক্ষতি হয়। গাড়ি বেশি নষ্ট হয়। তাছাড়া যাত্রীদেরও অনেক দুর্ভোগ হয়। সড়কে গর্তের কারণে আচমকা ঝাঁকির কারণে অনেক সময় যাত্রীদের সাথেও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।

সিলেট নগরীর তাতীঁপাড়া এলাকার বাসিন্দা তামান্না রহমান বলেন, আমাদের এলাকার বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন জিন্দাবাজার সড়ক। নগরীর প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে সারা বছরই খোঁড়াখুঁড়ি হয়। কখনো সড়ক বড় করা হয়, কখনো ড্রেন করা হয়, আবার কখনো দেখা যায় গ্যাস, পানির লাইন ঠিক করার জন্য সড়ক খোঁড়া হচ্ছে। এই সড়ক কখনোই মসৃণ দেখা যায় না। এতে বিড়ম্বনা পোহাতে হয় সড়ক ব্যবহারকারীদের।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ