গোয়াইনঘাটে মামলাবাজ মতিনের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে মুক্তির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০

গোয়াইনঘাটে মামলাবাজ মতিনের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে মুক্তির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

 নিজস্ব প্রতিবেদক-

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের পাইকরাজ গ্রামের মামলাবাজ আব্দুল মতিনের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা হতে মুক্তির দাবিতে স্থানীয় পাইকরাজ গ্রামের উওর পড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তোয়াকুল ইউনিয়নের পাইকরাজ উত্তরপাড়া গ্রামে উক্ত বিশাল মানববন্ধন পালন করা হয়। মানববন্ধন চলা কালে বক্তারা বলেন, পাইকরাজ উত্তর পাড়া গ্রামের নিজস্ব তহবিলের আমানত বাবদ ১০ হাজার টাকা একই পাঞ্চায়েতে বসবাসকারী মামলাবাজ আব্দুল মতিন আত্মসাৎ করেছিলেন। অপর দিকে একই পাঞ্চায়েতের আরেক মামলাবাজ গিয়াস উদ্দিনের ভাই আমির উদ্দিন গ্রামের নিজস্ব তহবিলের ৩০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়াও গ্রামের সরকারি একটি সড়কের উপর পিলার নির্মাণ করে মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয় গিয়াসউদ্দিন উদ্দিনের ভাই আমির উদ্দিন। উক্ত বিষয় গুলো মিমাংসা করা এবং গ্রামের অভ্যন্তীর কয়েকটি সড়ক সংস্কারের উদ্দোগ নিয়ে পাঞ্চায়েত কমিটি গ্রামের নিজস্ব তহবিলের আমানতের টাকাসহ আব্দুল মতিন ও গিয়াস উদ্দিনকে গ্রাম্য সালিসি উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানান। আব্দুল মতিন ও গিয়াস উদ্দিন গ্রাম্য সালিসি বৈঠকে উপস্থিত না হয়ে পাঞ্চায়েত কমিটি সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ও বিতর্কিত মন্তব্য করেন। উক্ত বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিলে গোয়াইনঘাট থানার অন্তর্ভুক্ত সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর দিলীপ কান্ত নাথের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়নি সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর রাতে পাইকরাজ গ্রামের আব্দুল মালিকের গোয়াল ঘর থেকে গরু চুরি করতে গিয়ে বাড়ির লোকজনের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন এলাকার চিহ্নিত মামলাবাজ আব্দুল মতিনের ছেলে আশিক মিয়া, ফুল মিয়া, বিলাল উদ্দিন, রব্বানী এবং মন্তাজ আলীর ছেলে আব্দুল গফফার। হাতেনাতে ধরার পর চুরদের স্বশস্ত্র হামলায় হুশিয়ার আলী, এলোয়ার ও আব্দুর রব গুরুতর আহত হন। বিষয়টি বড় আকারে যাচ্ছে আঁচ করতে পেরে আব্দুল মতিনের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সালিশ বিচারের মাধ্যমে ঘটনাটি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সুকৌশলে চুরদেরকে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যান। পরে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এ ঘটনা সালিশ বৈঠকে নিষ্পত্তি না হলে আব্দুল মালিক বাদী হয়ে আব্দুল মতিনসহ ৬ জনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার জেরে ১৫ অক্টোবর গোয়াইনঘাট থানায় একটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে আব্দুল মতিন (যার নং- ২১, তাং- ১৫-১০-২০২০)। মামলায় নিরাপরাধ লোকজনকে আসামী করে হয়রানি করছে আব্দুল মতিন। এসময় বক্তারা আরো বলেন, আব্দুল মতিন এলাকার একজন চিহ্নিত অপরাধী। তিনি এর আগেও পাইকরাজ গ্রামের ফান্ড থেকে ১০ হাজার ৬’শ টাকা নিয়ে আত্মসাত করেছেন। তাই ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল, টাকা আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে মামলাবাজ আব্দুল মতিনের এসব মিথ্যা মামলা তুলে নেওয়ার আহবান জানান। অন্যথায় পুরো এলাকাবাসী মিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মানববন্ধনে বলেন বক্তারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পাইকরাজ গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বি হাজী মাওলানা জহুর উদ্দিন, বঙ্গবীর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ও পাইকরাজ বড় মসজিদের ক্যাশিয়ার মাওলানা বশির উদ্দিন, তাহির আলী, তোতা মিয়া, ছমির উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনফর আলী, আব্দুল খালিক, মোশাহিদ আলী, জসিম উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, বিলাল উদ্দিন, আব্দুল মালিক, মন্তাজ আলী, আব্দুল হাসিম, মাওলানা শোয়াইবুর রহমান, শ্রমিকলীগ নেতা উজ্জ্বল দেব, পবিত্র কুমার দেব, নিজাম উদ্দিন, আব্দুল মুতলিব, আব্দুল­াহ,আইন উল­াহ, ফরিদ আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড নেতা সেবুল আহমদ, বাবুল আহমদ, হাবিবুর রহমান, সয়বুর রহমান, ইউসুফ আলী, আকবর আলী, আজির উদ্দিন, ফাতিমা বেগম, পিয়ারা বেগম, জাহানারা বেগম, নেওয়ারুন নেছা, সাবেক মহিলা সদস্য অঞ্জলি রানী দেব প্রমুখ। এছাড়াও বৃহত্তর পাইকরাজ গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ মানববন্ধনে অংশ নেন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ