তাহিরপুরে নিরীহ পরিবারকে হয়রানীর প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২০

তাহিরপুরে নিরীহ পরিবারকে হয়রানীর প্রতিবাদে মানববন্ধন

 

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একটি নিরীহ পরিবারকে মিথ্যা মামলা, জমি দখল ও মারপিট করার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের পাঠানপাড়া খেয়াঘাট সংলগ্ন সড়কে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ পালন করে।

 

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সিজান মাহমুদ শিপন, স্থানীয় এলাকাবাসী আব্দুল বারেক, শিপনের মা শামসুন্নাহার বেগম। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার পাঠানপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজ সরদারের ছেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সিজান মাহমুদ শিপন, সহোদর শাহ আলম, সোহাগ, রিপন, সুমন, মা শামসুন্নাহার বেগম ও বোন রুবিনা খানম। মানববন্ধনে কোনাঠ গ্রামের বাসিন্দা মৃত পান্ডব হাজীর ছেলে আব্দুল বারেক বক্তব্যে বলেন, সংঘবদ্ধ চক্রটি শিপনকে হামলা করলে, আমি এর প্রতিবাদ করায় তারা আমাকেও মারধর করে আহত করে। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সিজান মাহমুদ শিপন বলেন, গত ৩ বছর ধরে পাঠানপাড়া গ্রামের মৃত ফখরুদ্দিন সরদারের ছোট ছেলে নজরুল ইসলাম, আমার সৎ দুই ভাই হুমায়ুন কবির ও হোসাইন মোহাম্মদ শাহিন এবং একই গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান চৌধুরীর ছেলে মুহিত চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন মিলে আমার পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগদখল করে রেখেছে ।

 

এর প্রতিকার চেয়ে আমি থানায় অভিযোগ করলে তারা আমাকে মারধরসহ আমার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। এছাড়া সংঘবদ্ধ এ চক্রটি আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে ছিল। পরে আদালতের মাধ্যমে এ মামলায় আমি নির্দোষ প্রমাণিত হই। তাছাড়া বর্তমানে এ চক্রটি নানান ষড়যন্ত্রসহ, সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এর আগে এ চক্রটি আমাকে একাধিক বার প্রাননাশের উদ্যেশ্য হামলা করে আহত করে।

 

গত ২৯ অক্টোবর তারা আবারও আমাকে হত্যার উদ্যেশ্য পাঠানপাড়া বাজারে সুজনের হোটেলে প্রকাশ্য দিবালকে পাঠানপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজ সরদারের ছেলে হুমায়ুন, মুহিত চৌধুরীর ছেলে লিটন ও তার ভগ্নিপতি নবাব মিয়াসহ ৮-১০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। হামলায় আমি গুরুতর আহত হয়ে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেই এবং তাদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে থানা পুলিশ আমাকে স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি মিমাংসার কথা বলে বিদায় করে দেয়। অদ্যাবধি উক্ত হামলার কোন বিচার পাইনি এবং ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অবগত রয়েছেন। তাছাড়া স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তাদেরকে নোটিশের মাধ্যমে মিমাংসার জন্য ডাকলেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারটি সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ন্যায়বিচার পাওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ