সিলেটের বিশ্বনাথে ইয়াবা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাদির সাথে এক দারোগার আতাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে দৌলতপুর গ্রামের মৃত ফিরোজ খানের পুত্র অলি খান (২৯) এর বাড়ির পরিত্যাক্ত টয়লেট থেকে ৯ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করেন এসআই ফজলুল হক। কিন্তু অলি খাঁন বাদি হয়ে থানায় মামলা না করে তিন জনের নামে ওইদিন বিকেলে সাধারণ ডায়েরী করেছেন। ডায়েরী নং ১৩০৮।

ডায়েরীতে অভিযুক্তরা হলেন- একই বাড়ির বাসিন্দা আলা খানের পুত্র গয়াছ খাঁন (৪৮), তেজন খাঁনের পুত্র সুহেল খান (৪৫) ও মীরেরচর গ্রামের লিয়াকত আলীর পুত্র আব্দুল হামিদ রুমেল (৩০)। তবে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে বাদি অলি খাঁনের সাথে থানার এসআই ফজলুল হকের আতাত রয়েছে বলে প্রতিপক্ষের অভিযোগ রয়েছে। ইয়াবা উদ্ধারের পুর্বে কোন মামলা তদন্তের আইও না হয়েও একাধিকবার অলি খানের বাড়িতে যান এসআই ফজলুল হক। এনিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অজানা আতংকে রয়েছেন বিবাদীরা।

ডায়েরীতে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একই বাড়ির বাসিন্দা আলা খানের পুত্র গয়াছ খাঁন (৪৮) ও তেজন খাঁনের পুত্র সুহেল খান (৪৫) এর সাথে বাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে রোববার (২৫অক্টোবর) দিবাগত রাতে গয়াছ খান ও সুুহেল খান বাদি অলি খাঁনকে ফাঁসানোর জন্য সাদা টিস্যু কাগজে মুড়িয়ে তার বাড়ির পরিত্যাক্ত একটি টয়লেটে ৯পিছ ইয়াবা রাখেন। রাতে বিষয়টি অলি খানের বাড়ির কাজের লোক একই গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (২৬) দেখতে পায়। পরদিন সোমবার (২৬অক্টোবর) সকালে অলি খাঁন নিজে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ৯ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করেন থানার এসআই ফজলুল হক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন অলি খাঁন।

গায়াছ খাঁন অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির জায়গা নিয়ে অলি খাঁনের পরিবারের সাথে বিরুধ চলে আসছে। এবিষয়ে বিশিষ্ট মুরব্বি ও ওসিসহ থানায় সালিশ বৈঠক হয়েছে। ওই শালিস বৈঠকে হেরে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে অলি খাঁনের লোকজন বাদি হয়ে কোর্টে চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলো কোর্টে চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ইয়াবা উদ্ধারের পুর্বে গত ২৪ অক্টোবর (শনিবার) দুপুরে এসআই ফজলুল হক অলি খানের বাড়িতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ তার ঘরে বসে চলে যান। এরপূর্বে বৃহস্পতিবার সকালেও অলি খাঁনের বাড়িতে যান এসআই ফজলুল হক। ওই সাধারণ ডায়েরীর বাদি অলি খাঁনের সাথে এসআই ফজলুল হকের একাধিকবার সাক্ষাৎ নিয়ে অনেকটা আতংকে রয়েছেন গয়াছ খাঁনসহ তার পক্ষের লোকজন।

এব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই ফজলুল হক বলেন, তিনি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তার বাড়িতে গিয়ে একটু চা পান করেছেন।