সিলেটে হকার্সদের যন্ত্রণায় অতিষ্ট মেয়র আরিফ

প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২০

সিলেটে হকার্সদের যন্ত্রণায় অতিষ্ট মেয়র আরিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট নগরীতে দিনে-রাতে পুনর্বাসনের দাবি নিয়ে মেয়রের বিরুদ্ধে মহানগর হকার্সলীগ সভাপতি রকিব আলীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ করেছেন সিলেট মহানগর হকার্স ঐক্য কল্যান পরিষদ। এরই দ্বারা বাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার তারা নগরীর কোর্ট পয়েন্টে পুনর্বাসনের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভে মেয়রের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন হকার্স নেতারা। কিন্তু এই রকিব বাহিনীর যন্ত্রণায় অতিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সম্প্রতি সিলেট সিটি করপোরেশনে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মহানগর হকার্সলীগ থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়। জামিনে মুক্তি পেয়ে কিছুদিন নিরব থাকার পর ফের হকার্সলীগের সভাপতির দায়িত্ব নেন রকিব। সভাপতি হয়ে তিনি আগের মতো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কিন্তু নগরীর ফুটপাতে রকিব আলীর কোন ধরণের দোকান-পাঠ নেই। কিশের বলে রকিব আলী সিলেট মহানগর হকার্সলীগ সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন।
এদিকে নগরীর সচেতন মহলের দাবি আদালত পাড়া, পুলিশ সুপার কার্যালয়, জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বাস ভবনসহ এই জনগুরুত্ব পূর্ণ এলাকা হকার্স মুক্ত করা। এই দাবি নিয়ে বার বার মেয়রের কাছে অভিযোগ করছেন সচেতন মহল। বাধ্য হয়ে মেয়র এ সকল এলাকা হকার্স মুক্ত করতে সর্বদাই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অভিযানের পর ফের ফুটপাতে অবস্থান করেন এই রকিব বাহিনী।
স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, রকিব আলীকে সভাপতি করে সিলেট মহানগর হকার্স ঐক্য কল্যান পরিষদ নামক একটি সংগঠন করা হয়। এই নিয়ে মাঠে নামেন রকিব আলী ও চাঁদাবাজ বাহিনী। মেয়রের অভিযানের সাথে সাথে তারা সিটি কর্পোরেশন এলাকা ঘেরাও করেন। কিন্তু মেয়র কি করবেন? জনগুরুত্ব পূর্ণ এলাকা দখল মুক্ত করার স্বার্থে তিনি সর্বদাই অভিযান অব্যাহত রাখছেন।
রকিবের রয়েছে বিশাল একটি চাঁদাবাজ বাহিনী। এই বাহিনীর লোকজন প্রতিদিন হকার্সদের নিকট নিয়মিত চাঁদা করেন। এই টাকা রকিবের মাধ্যমে বিভিন্ন জনের নিকট পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
রকিব আলী বলেন, আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। প্রতিদিনের রোজগার দিয়ে আমাদের সংসার চলে। সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ পরে ব্যবসা করার কথা থাকলেও আমরা সন্ধার পর ব্যবসায় বসি। এরপরও রাতের অন্ধকারে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আমাদের হকার্সদের বিনা অপরাধে মারধর ও মালামাল নিয়ে যান, যা খুবই দুঃখজনক। যদি দ্রুত আমাদের পুনর্বাসন ও মালামাল ফেরত না দেওয়া হয় আগামীকাল থেকে মানববন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ