রূপসী গ্রাম বাংলার খন্ডচিত্র

প্রকাশিত: ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০২০

রূপসী গ্রাম বাংলার খন্ডচিত্র

আব্দুল হান্নান, লাখাইঃ

হবিগঞ্জ লাখাইয়ে অবস্থিত রাঢ়িশাল করাব থেকে মাঝ মাঠ দিয়ে আগাপুর পর্যন্ত চলে গেছে একটি মাটির রাস্তা। রাস্তা দিয়ে হেটে গেলে নজরে আসে কিছু পুরনো উঁচু টিলা, পুরনো গাছ।এগুলো কখন কিভাবে হয়েছে সেটা জানা নেই কারো। অনেকে মনে করেন এখানে লোকজনের বসবাস ছিল। অধিকাংশ জায়গার মালিক ছিল হিন্দু জমিদার অমল বাবুর। দেশ বিভাগের সময় ভারত চলে যায় জায়গা জমি বিক্রি করে। অনেকের ধারণা টিলা গুলোতে একসময় মানুষ বাস করতো। উচু টিলা ও পুরনো গাছের আশেপাশে কোন বাড়ি ঘর নাই। চারদিকে সবুজ ফসলের মাঠ । স্থানীয়দের কাছে এগুলো ভিন্ন নামে পরিচিত। আগাপুরেের একটা পুরনো বটগাছ আছে। প্রায় একশত বছরের পুরনো গাছটির নিচে মানুষ বিশ্রাম নেয়, গরু ছড়ায়। পাশে আছে একটা ডুবা, যেখানে বর্ষাকালে মাছ জমে। আগাপুর থেকে উত্তর দিকে রাস্তা ধরে আসলে আরেকটা জায়গার নাম নোয়াপুশকুনী। নামটা কিভাবে হলো কেউ জানেনা । তবে এখনো একটি পুরনো বড়োই গাছ ও একটা পুশকুনী বা পুকুর রয়েছে। এজন্য হয়তো এ নামে সবাই ডাকে। গাছটির নিকটবর্তী পশ্চিম কয়েকটি উচুটিলা আছে যার নাম খালিওড়ি। ওড়ি অর্থ পাহাড়। জায়গাটা খালি থাকায় এ নামে ডাকে। এগুলোর মাঝখানে সাদা শাপলা বেষ্টিত একটা ডুবা আছে। পাশে উত্তর দিকে রাস্তা ধরে আসলে আরেকটা জায়গায় নাম হচ্ছে ছিলমুড়ি। এখানে টিলার উপর রয়েছে গাছের ঝোপঝাড়। দূর থেকে সকলের নজর কাড়ে জায়গাটা। এখানে লোকজনের চলাচল কম তাই এটা লতাপাতা শোভা পাচ্ছে। আরেকটা জায়গা এর ঠিক উত্তর দিকে আছে যেটা টেপাইয়া নামে পরিচিত। এ জায়গার মালিক ছিল হিন্দু জমিদার অমল বাবু। এখন এ জায়গার মালিক মনতৈল গ্রামের ইসহাক মিয়া। স্থানীয়রা বলেন এসব জায়গা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছে তারা। মাঠের মাঝখানে এগুলো যেন বছরের পর বছর এভাবে দাড়িয়ে থাকে এটাই সকলের কামনা।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ