রূপসী গ্রাম বাংলার নদীর কান্না

প্রকাশিত: ১:১৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০২০

রূপসী গ্রাম বাংলার নদীর কান্না

আব্দুল হান্নান, লাখাই ঃ তেরোশত নদীর দেশ, বাংলাদেশ। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদনদী, খালবিল, হাওর-বাউরে একসময় প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। মাছে ভাতে বাঙালি বলা হয় আমাদের। সেই ইতিহাস ঐতিহ্য হারাতে বসেছে আমাদের নদীগুলো। মানুষের সৃষ্ট কারণে কত নদী আজ অসহায়। তেমনি একটি নদীর নাম বেলেশ্বরী। হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় অবস্থিত এ নদীটিকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় ‘বেলেশ্বরী মেলা, যেটা বান্নী নামে লোকমুখে পরিচিত। হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এই মেলাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই নদীর জলে গোসল করে পবিত্র হতে আসে তারা। একসময় নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। পানি ছিল পরিষ্কার। যে সময় গ্রাম গঞ্জে সুপেয় পানির ব্যবস্থা ছিল না তখন আশেপাশের মানুষেরা নদীর পবিত্র পানি দিয়ে প্রয়োজন মেটাতো। আজকাল নদীটা তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। পবিত্র হতে এসে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা হয়তো অপবিত্র হয়ে বাড়ি যেতে হয়। বর্ষাকালে নদীর পানি আংশিক পরিষ্কার থাকলেও পরে দেখা যায় ঘোলাটে পানি। বছরদুয়েক হল মরা নদীটিকে বাঁচানোর জন্য সরকারি ভাবে খনন করা হয়েছে। আলীপুর শিল্পনগরী গড়ে ওঠার পর থেকে সেখানকার দূষিত বর্জ্য পদার্থ মিশ্রিত হয়ে পানির গুণগত মানের পরিবর্তন করছে। মাছের দেখা নেই আগের মতো। একসময় ছিল যখন মাছের নেশায় মানুষ আসত, রাতদুপুরে জালে কুপি বাতি জ্বালিয়ে মাছ ধরত। নদীর পাড়ে রাতের আঁধারে সেই দৃশ্য আর দেখা যায় না। বহুদূর থেকে একেবেকে আসা নদীটি হোসেনপুর গ্রামের পাশ দিয়ে দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে গিয়ে বেলেশ্বরী নাম ধারণ করে মিলিত হয়েছে অন্য নদীর সাথে। হবিগঞ্জ লাখাই উপজেলার সংযোগস্থল হলো এই নদীটি। সেখানে আবার নদীর পানি ধরে রাখার জন্য সূইচ গেইট দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষের দাবি, সূইচ গেইট উপকারের তুলনায় অপকার করছে বেশি। একদিকে মাছের চলাচল বাধাগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে নৌ পথে ব্যবসা বানিজ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। উপজেলা প্রশাসন নিজেদের খেয়াল খুশির অনসরণ করেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। এঁকেবেঁকে চলা নদীটির দক্ষিণ দিকে পাড় ধরে হেঁটে গেলে নজরে আসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চারণভূমি। খনন কাজের ফলে চারণভূমির কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। নদীর দু পাড়ে অসংখ্য গাছ রয়েছে। যেই গাছ গুলো পথচারীদের ছায়াদান করে চলছে দিনের পর দিন। গোবিন্দ পুর মৌজায় অবস্থিত গাছগুলোর প্রায় দু’শ বছরের পুরনো। সেখানে গরু চরাতে আসে উচাইল গ্রামের লোকজন। এ গাছ গুলো যেন কোনক্রমে কাটা না হয় এটাই তাদের চাওয়া। স্থানীয় লোকদের মুখ থেকে জানা যায়,নদীর পানি আস্তে আস্তে কমলেও মাছের দেখা নেই আগের মতো।
যদিও নদীতে কিছু মানুষের নিরব উঠানামা সেটা তাদের অবকাশ যাপন। যে নদীতে মাছের ঝুপঝাপ শোনা গেছে সেখানে আজকাল চুনোপুঁটির ঝাঁপাঝাপি শুনতে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। তবে হাওর বাউর ও দীর্ঘ সময় পানিবেষ্টিত এলাকায় এখনো মাছের ঝুপঝাপ শোনা যায়।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ