সীমান্তে বাড়ছে চোরাচালান, নেতৃত্বে সুমন,সামসু,জামাল

প্রকাশিত: ৬:০২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২০

সীমান্তে বাড়ছে চোরাচালান, নেতৃত্বে সুমন,সামসু,জামাল

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি-

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মাদক ও চোরাকারবারীদের দৌরাত্ম দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন কৌশলে হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরাচালান চক্র। তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সীমান্ত দিয়ে শুরু করছে চোরাচালান। এদের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা কোন প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। এই তিনজনের মধ্যে একজন জাকির হোসেন সুমন তিনি নিজেকে সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের ভাগিনা পরিচয় দিয়ে থাকেন। যার ফলে কেউ তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেননি।

সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি সিলেটের প্রতিটি অনুষ্টানে সীমান্ত চেরাচালান বন্ধের প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালান নিয়ে তিনি কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন আমার দেশের পণ্য কেনো ভারতে পাচার হবে। আমরা আমাদের দেশের চাহিদা অনুযায়ী মটরশুটি সহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য বিদেশ থেকে আমদানী করে ভূর্তকি দিয়ে বাজারজাত করি শুধু দেশের মানুষের জন্য। মটরশুটি সহ বাংলাদেশী পণ্য পাচাররোধে প্রশাসন’র পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। চোরাচালান রোধে পুলিশ সহ সীমান্তে নিয়োজিত বিজিবিকে আরো কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এরপর থেকে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হয়েছেন। চলছে নিয়মিত অভিযান।
কিন্তু এতকিছুর পরও থেমে নেই জামাল, জাকির হোসেন সুমন, সামছুদের চোরাচালান। তাদের নেতৃত্বে উপজেলার চার নম্বার সীমান্ত দিয়ে অবাধে আসছে ভারতীয় চোরাই পণ্য। এই তিনজনের মধ্যে একজন হলেন জাকির হোসেন সুমন। তিনি সিলেট জেলার প্রতিটি থানার ওসিদের সাথে এসপির ভাগিনা হিসাবে পরিচিত। বিভিন্ন স্থানে এসপির সাথে সেলফি তোলে নিজেকে এসপির ভাগিনা পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।

অতচ এসপি নিজেই গোয়াইনঘাটের সাংবাদিকদের কাছে বলছেন সুমন নামের কাউকে তিনি চিনেন না। এছাড়া সিলেটে এসপি কোন আত্মীয় নেই। সুমন এই ভুয়া আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সীমান্ত এলাকার প্রতিটি থানা পুলিশের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিচ্ছে। এরই দ্ধারাবাহিকতায় জৈন্তাপুর থানার ওসিকেও এসপির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে বুঙ্গার লাইন। এই লাইনে দায়িত্ব পালন করছে চোরাকারবারী জামাল। এছাড়া তার সাথে রয়েছে চোরাকারবারী ও অবৈধ কোটিপতি সামছু মিয়া। সামছু কিছুদিন আগে সীমান্তে তার লোকজন নিয়ে বিজিবির উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় বিজিবি বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। কিন্তু সুমনের ভুয়া পরিচয়ে সুমছু ও জামাল বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

এদিকে ইউটিউব চ্যানেল ও আইপি টিভি সংবাদ পরিবেশন করতে পারবে না। অথচ এই জাকির হোসেন সুমন একটি নাম মাত্র ইউটিউব চ্যানেল এর সিলেট প্রতিনিধি হিসাবে জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবে যাত্রা শুরু করে। তার সাথে রয়েছেন সীমান্তের শীর্ষ দুই চোরাকারবারী সামছু ও জামাল। তারা জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবে কিছু সময় বসার কথা বলে প্রেসক্লাবের মানহানি করছে। এ নিয়ে ক্লাবের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এছাড়া সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের ভাগিনা পরিচয়দানকারী জাকির হোসেন সুমন জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবে নিজেকে সিলেটের বড় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ক্রাইম সিলেট অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও এক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানীকর মন্তব্য করেন। পরে জৈন্তাপুরের সাংবাদিকরা এমন মন্তব্য থেকে বিরত থাকার কথা বলেন। সুমন এই ভুয়া আত্মীয় ও হলুদ সাংবাদিকতা দিয়ে পুলিশ ও জনসাধারণকে হয়রানি করছে। এমনকি জাফংলয়ে ছিলো তার ইয়াবা-মাদকের আস্তানা। স্থানীয় প্রতিবাদী জনতার ভয়ে জাফলং থেকে পালিয়ে সে এখন সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকায় অবস্তান করছেন। সংবাদটি চলমান

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ