১০২টি কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি ও ৯১টি বিট পুলিশিং কাজে সিলেট জুড়ে প্রশংসায় জেলা পুলিশ!

প্রকাশিত: ২:৫৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২০

১০২টি কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি ও ৯১টি বিট পুলিশিং কাজে সিলেট জুড়ে প্রশংসায় জেলা পুলিশ!

আসাদুল হক, গোয়াইনঘাটঃ
পুলিশ শব্দটি একসময় আমজনতার কাছে ভয়ের কারণ ছিল। বিশেষ করে ছোট – ছোট শিশুদের দুষ্টমি বন্দে ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য পুলিশের নাম ভাঙ্গানো হতো। বর্তমানে সিলেটের পুলিশ সুপার হিসেবে মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম যোগদানের পর তার সততা,নিষ্ঠা, কর্মদক্ষতা ও আন্তরিকতায় এই ভয় জয় করে নিয়েছে সিলেট জেলা পুলিশ। এসপি ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে সিলেট জেলা পুলিশ বন্ধুর ভূমিকায় উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা সাধারণ জনতার পাশে হরহামেশাই দাঁড়াচ্ছেন।
শুধু তাই নয়, সিলেট বাসীর হাসিখুশি, আনন্দ-উৎসবে তারা নিজেদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে কাজ করে চলেছেন। জঙ্গি-মাদক, সন্ত্রাস তথা অপরাধমুক্ত সিলেট জেলা গড়া একা পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়, এর জন্য সমাজের নাগরকিদের দাঁড়াতে হবে। হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। এ জন্যই কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশং কার্যক্রম। প্রতিটি উপজেলা,ইউনিয়ন, গ্রাম ও
পাড়ায় এর কার্যক্রম দ্রুত বেগবান হচ্ছে। পুলিশ-জনতার এক্যবদ্ধ চেষ্টার ফলেই আজ গ্রাম থেকে গ্রামান্তরের অপরাধ দূরীভূত হতে চলেছে। সিলেট জেলার ১১ টি থানা,৪টি পৌরসভা ও ৮৭টি ইউনিয়নে মোট- ১০২ টি কমিটির মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং এর কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি ৪ টি পৌরসভা ও ৮৭ টি ইউনিয়নে বিট পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মানুষের জীবনে ভাল বন্ধুর ভূমিকা অপরিসীম। একজন ভাল বন্ধুই পারে জীবনে চলার পথের বন্ধুর ভুলগুলো শুধরে দিয়ে আলোর পথের সন্ধান দিতে। জীবনে সেই পরম বন্ধু, যে কিনা বিপদে-আপদে সুখে-দুঃখে কাছে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়ায়। মানুষে মানুষে বিশ্বাস আর ভালবাসার সংমিশ্রণে বন্ধুত্বের পবিত্র বন্ধন তৈরি হয়। আর এ ভালবাসা কখনও জোর করে আদায় করা সম্ভব নয়। মানুষ মানুষকে নিজের মনের অজান্তেই ভালবাসে। ভালবাসার এ সুন্দর রসায়নটা শুধু মনের মধ্যে থেকেই সৃষ্টি হয়। যে কোন রকম বন্ধুত্ব থেকেই ভালবাসার উৎপত্তি! পুলিশ জন্মলগ্ন থেকেই জনগণকে বন্ধু ভাবছে, আর সিলেট জেলায় এসপি ফরিদের নেতৃত্বে নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে পুলিশ পেয়েছেন জনগণের ভালবাসা। অপর দিকে সিলেটসহ দেশব্যাপী পুলিশ বিভাগ প্রশংসিত হচ্ছে।পুলিশ ও জনগণের এ ভালবাসা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পুলিশ জনগণকে একতরফাই ভালবেসে চলছে। জনগণ পুলিশের এ গভীর প্রেমের আহ্বানে কবে সাড়া দেবে তা আল্লাহপাকই জানেন। পুলিশের সেবা নিয়ে সমাজে যতই বিতর্ক থাকুক না কেন তাদের সংশ্লিষ্ট কাজগুলো নিজেদেরই করতে হয়। মানুষের শেষ ভরসার আশ্রয়স্থল এখনও পুলিশের দরজা। নাগরিক সভ্যতাকে সমুন্নত রেখে রাষ্ট্রে বসবাসরত শান্তিপ্রিয় জনগণের জন্য একটি সুরক্ষিত সভ্য সমাজ নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিরামহীনভাবে কাজ করতে হয়। পুলিশ বাহিনীর কর্মকান্ড পরিচালিত হয় বাহিনীর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাকে ভিত্তি করে। এই বাহিনীর প্রশিক্ষিত জ্ঞান আহরণ করেই পুলিশ সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করে। এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের কর্মপরিধি, পরিকল্পনা, কাজের যোগ্যতা, বিচক্ষণতা, অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ তেমন অবগত নন। পুলিশ মানুষের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পারবে, তাও মানুষ ভাল করে জানে না। সাধারণ শ্রমিকের সঙ্গে পুলিশের কর্মঘণ্টার কোন মিল নেই। প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, আগামী দিনে পুলিশ বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য অসহায় ও বিপন্ন মানুষের বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়াবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রেখে ২০২১-২০৪১ শান্তি রূপকল্প বাস্তবায়নে পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য বিশেষ অবদান রাখবে। পুলিশের হাজারো সীমাবদ্ধতা থাকার পরও সরকার ও জনগণ পুলিশের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। সবাই পুলিশের সেবার ওপর নির্ভর করার পরও রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রধান সহায়তাকারী সেবক এই পুলিশকে জনগণ কেন ভালবেসে বন্ধু ভাবতে পারছে না তার কারণ আজও অজানা। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বপ্রথম পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাই দেশপ্রেমে আপ্লুত হয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মোৎসর্গ করেন। জনগণের জানমাল তথা সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ২৪ ঘণ্টা দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। একমাত্র পুলিশই জনগণকে সরাসরি সেবা প্রদান করতে পারেন, যা কিনা অন্য কোন বাহিনীর পক্ষে সম্ভব নয়। বৈশ্বিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ,করোনা পরিস্থিতি, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মহামারী মোকাবেলায় সবার আগে সিলেট জেলা পুলিশের প্রশংসনীয়
ভুমিকা রয়েছে। পারিবারিক, সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব একইসঙ্গে শুধু পুলিশকেই পালন করতে হয়। পুলিশের সদস্যরাদের জনগণ ভালবাসুক কিংবা না বাসুক, এসপি ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে সিলেট বাসীর মঙ্গলের জন্য তারা হাসিমুখে করে যাচ্ছেন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ