নাম্বার বিহীন ৪ হাজার অটোরিকশা সিএনজি চালকদের পাশে দাড়ানো সময়ের দাবি

প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০২০

নাম্বার বিহীন ৪ হাজার অটোরিকশা সিএনজি চালকদের পাশে দাড়ানো সময়ের দাবি

 

আসাদুল হক, গোয়াইনঘাটঃ

বিশ্বজুড়ে নতুন করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তার বাড়ছেই। এই মহামারী ঠেকাতে দেশে গত প্রায় আট মাস ধরে চলছে অঘোষিত ‘লকডাউন’। এর আগে হয়তো এই লকডাউন শব্দটি এদেশের অনেক মানুষেরই জানা ছিলো না। কিন্তু এর প্রভাব এখন সহজেই টের পাচ্ছেন এ দেশের হতদরিদ্র, নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির থাকায় কঠিন সংকটের মুখে পড়েছেন দিন এনে দিন খাওয়া এই মানুষেরা।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সিলেটের
গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও সদর উপজেলায় প্রায় ১২ লাখ জনসংখ্যার ২০ শতাংশই দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ বা দিন মজুর। গত ১০ মাস ধরে তারা কর্মহীন, উপার্জনহীন। যারা এতোদিন পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন, এখন কাজ না থাকায় তারা হাত পাততে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরবে-নিভৃতে অনাহারে দিন পার করছেন। প্রায় ৩ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক দেশের এই নিম্নআয়ের মানুষের অন্তর্ভুক্ত। যারা সরকারি বা বেসরকারি কোন খাত থেকে সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়ার তালিকায় নেই। আর সবাই যখন একই সংকটে তখন অন্যের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার আশা করাটাও দুরূহ ব্যাপার।

গোয়াইনঘাটের নিয়াগুল গ্রামে পরিবার নিয়ে থাকেন সিএনজি চালক রমজান আলী। তিনি বলেন, গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে না পারায় বড় কষ্টে দিন কাটছিল। টানা তিন দিন ঘরে খাবার ছিল না। সেই সময়ে অপ্রত্যাশিতভাবে অটোরিকশা সিএনজি চালিত নাম্বার বিহীন অটোরিকশা সিএনজি গুলোকে মোবাইল কোর্টের আওতায় এনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

করোনা ভাইরাস সংকট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল কোর্টের আগে মধ্য বয়সী রমজান সিএনজি চালিয়ে দৈনিক গড়ে আটশো’ টাকা আয় করে মোটামুটি স্বাচ্ছন্দ্যেই জীবনযাপন করতেন। কিন্তু বর্তমানে স্বাচ্ছন্দ্যটুকু হারিয়ে যায় তার। তিনি বলেন, আর কোনো বাবার সামনে যেন সন্তানরা অনাহারে না থাকে। সরকারি ভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে করোনা পরিস্থিতির প্রাথমিক পর্যায়ে ত্রান সামগ্রী পেয়েছিলাম।এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে রমযান মিয়ার অবস্থা
মতো কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও সদর উপজেলাসহ
আরো প্রায় তিন হাজার সিএনজি চালকের।

চালকদের সহায়তা করাটা অনেকেই পারিবারিক বিষয়াদি বলে সমালোচনা করতে পারেন।
এই সময়ে আমাদের হয়তো উচিত অটোরিকশা সিএনজি চালকদের পাশে দাড়ানো।
জনসেবামূলক কাজ করা সবার সম্ভব হয়না।
কিন্তু মনে রাখবেনন যারা জনসেবা করতে পারে
তারা খুবই খুশি হন যে, এই সংকটের সময়ে সঠিক কাজটা করতে পেরেছি। তাদেরকেই সহায়তা করেছি, যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
এই অবস্থায় উক্ত এলাকার ৪ হাজার অটোরিকশা সিএনজি চালকদের পাশে দাড়ানো সময়ের দাবি।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ