গোয়াইনঘাটে তৃনমূলে সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ‘তথ্য আপা

প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২০

গোয়াইনঘাটে তৃনমূলে সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ‘তথ্য আপা

আসাদুল হক , গোয়াইনঘাটঃ
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকারের নতুন সেবা ‘তথ্য আপা’। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ‘তথ্য আপা’ সেবাটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ছাত্রী ও সুবিধাবঞ্চিত তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের কাছে। তথ্য আপার কাজ হচ্ছে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন সহায়তা, জেন্ডার ও ব্যবসায় উন্নয়ন, নির্যাতিত নারী, সুবিধাবঞ্চিত নারীদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে এ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জাতীয় মহিলা সংস্থা। এ উপজেলায় গত পাঁচ মাসে অন্তত ৭ হাজার নারী ‘তথ্য আপা’র কাছ থেকে বিভিন্ন সেবা নিয়েছেন।

জানা গেছে, সারা দেশে এ প্রকল্পের আওতায় ৪শ’ ৯০টি উপজেলায় তথ্যসেবা আপা কার্যক্রম চালু করা হয়। এর আগে প্রথম ধাপে ১৩ উপজেলায় এ সেবা চালু করা হয়েছিল।

গোয়াইঘাটে তথ্য সেবা অফিসে কর্মরত রয়েছেন তথ্যসেবা কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়া মীম,
তথ্যসেবা সহকারী সাথীয়া আক্তার ও শামীমা ইয়াসমিন এবং অফিস সহায়ক মোঃ বায়েজীদ।

সরেজমিন জানা যায়, তথ্যসেবা আপা গত কয়েক মাসে বাল্যবিয়ে বন্ধ, স্বামী ও দেবর কর্তৃক নারী নির্যাতন সমাধান, যৌতুক নিরোধ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেয়েদের বিনা মূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও প্রতি মাসে তৃণমূল নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক করে তৃণমূল নারীদের সচেতন করছেন।

শিক্ষার্থী আসমা জাহান ও সাদিয়া ইসলাম জানান, এইচএসসি পরীক্ষা পাস করেছি। বিভিন্ন জায়গায় চাকরির চেষ্টা করছি। তথ্যকেন্দ্রে তথ্য আপার কাছে গিয়ে অনলাইনে বিনা মূল্যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছি। সাত কুঁড়ি কান্দি এলাকায় দেবর কর্তৃক নির্যাতিত গৃহবধূ খাদিজা বেগম বলেন, সম্প্রতি আমি বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে তথ্য আপার সহযোগিতায় বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা পেয়েছি। চলিতা বাড়ি গ্রামের গৃহবধূ বিপাশা আক্তার মাহমুদা বলেন, সম্প্রতি আমার বিয়ে হয়েছে। স্বামী খোঁজখবর না নেয়ায় এবং আমার শারীরিক সমস্যার বিষয়ে তথ্য আপাকে জানিয়ে ছিলাম। তিনি তাৎক্ষণিক আমাকে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেন। আমি তখন ঘরে বসে চিকিৎসাসেবা পেয়েছি। এছাড়াও তিনি স্বামীর সঙ্গে সমস্যা সমাধান করেছেন। পূর্ব- পেকের খাল গ্রামের রেহেনা আক্তার বলেন, গত দু’বছর ধরে ভোটার আইডিতে জটিলতা সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলাম। তথ্য আপার কাছে গিয়ে তা সুন্দরভাবে সমাধানের সহযোগিতা পেয়েছি। এছাড়া তথ্যকেন্দ্রের আপারা গ্রামে গ্রামে এসে ইন্টারনেট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষিবিষয়ক উঠান বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা করে থাকেন। তারা আমাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। উপজেলা তথ্যসেবা সহকারী সাথীয়া আক্তার ও শামীমা ইয়াসমিন
বলেন, অফিসের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ডিজিটাল সেবা কী, কীভাবে সেবা পাওয়া যাবে- এসব বিষয়ে আলোচনা করে থাকি। দিনে দিনে এই উপজেলায় ‘তথ্য আপা’ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়া মীম বলেন, ভবিষ্যতে সেবার মান আরও বাড়ানো হবে। বর্তমানে এ কার্যালয়ে নারীদের সব ধরনের সেবা বিনা মূল্যে দেয়া হচ্ছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ