ডিবি’র তদন্ত প্রতিবেদনে নানা অসংগতি জৈন্তাপুরে সাংবাদিক নুরুল ইসলাম-কে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২০

ডিবি’র তদন্ত প্রতিবেদনে নানা অসংগতি জৈন্তাপুরে সাংবাদিক নুরুল ইসলাম-কে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি

জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ
জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকার নিজস্ব প্রতিনিধি সাংবাদিক নুরুল ইসলাম’র উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও নানা ভাবে তাকে হুমকি দিয়ে সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপ্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে একটি বিশেষ মহল। জানাগেছে, গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের রুস্তমপু গ্রামের বাসিন্দা ও জৈন্তাপুর উপজেলার সারীঘাট ঢুপী জামে মসজিদের মালিকানাধীন কাটাগাং চৈলাখেল মৌজায় অবস্থিত জায়গার ভাড়াটিয়া আব্দুর রউফ গং কর্তৃক সাংবাদিক নুরুল ইসলামের উপর মিথ্যা মামলা দায়ের করে বিভিন্ন ভাবে তাকে হুমকি ও হয়রানি করে আসছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর গোলাপগঞ্জ থানার সি আর মামলা নং-২০৫/২০২০ইং এবং সিনিয়র সহকারী জজ আদালত সিলেট সদর, রেন্ট কন্ট্রল মামলা নং-০৮/২০২০ইং। গোলাপগঞ্জ থানার সি আর মামলা সহ দু’টি মামলায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সাংবাদিক নূরম্নল ইসলাম-কে নানা ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এই ঘটনায় তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যার জিডি নং-১৩১৫,তারিখ: ৩০ অক্টোবর-২০২০ইং।
জানাগেছে, ঢুপী পশ্চিম জামে মসজিদের রেকর্ডীয় সম্পত্তি জৈন্তাপু নিজপাট ইউনিয়নের চৈলাখেল মৌজা’র জে এল নং ৩৬, দাগ নং-৭ খতিয়ান-১৫১-এর অর্ন্ত্মগত ৯ (একর) বা ২৭ বিঘা ভূমি বিগত ২০০৭ সালের জুন মাসে মো: আব্দুর রউফ, মো: আব্দুর রকিব উভয় পিতা মো: মাসুক মিয়া, সাং রুস্তমপুর (বাঘা মাদ্রাসা),উপজেলা গোলাপগঞ্জ, জেলা সিলেট এবং মুহিবুর রহমান সেবুল পিতা গৌছ মিয়া, সাং লতিপুর উপজেলা দক্ষিণ সুরমা, জেলা সিলেট-এর নিকট মসজিদ পরিচালনা কমিটি কর্তৃক (৯ একর বা ২৭) বিঘা জমি ভাড়া প্রদান করা হয়। ভাড়াকৃত তফশীল বর্ণিত ভূমি থেকে মসজিদের দখলীয় কিছু জমি অন্যত্র বিক্রয় করা সহ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের বিভিন্ন শর্ত লঙ্গন করা নিয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটি এবং ভাড়াটিয়ার মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে গত ১৮আগস্ট ২০২০ইং তারিখে ভাড়াটিয়া কে উচ্ছেদ/হস্তান্তর সংক্রান্ত উকিল নোটিশ প্রদান করা হয়। এখানে নুরুল ইসলামের কোন সংশিস্নষ্টতা নেই,তিনি মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাথে জড়িত নয়। ভাড়াটিয়া উকিল নোটিশ পাওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে নুরুল ইসলাম সহ মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল হামিদ (পাখি), সদস্য মাহমুদ আলী সহ গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিগনের উপর মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
গোলাপগঞ্জ থানার সি আর মামলা নং-২০৫/২০২০ইং’র তদন্ত্মভার দেয়া হয় জেলা গোয়েন্দা শাখা (দক্ষিণ জোন)’র এসআই (নিরস্ত্র) কলেস্নাল গোস্বামী-কে। যার স্মারক নং-২৫৮তারিখ-২৪/০৯/২০২০ইং। তদন্ত্ম কর্মকর্তা কলেস্নাল গোস্বামী প্রতিপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে সঠিক ভাবে তদন্ত না করে তিনি বাদীর দায়ের করা মিথ্যা তথ্য’র ভিত্তিতে প্রভাবিত হয়ে মনগড়া অসত্য তথ্য তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিস্থাপন করেন। গত ১৫ নভেম্বর,২০২০ইং তারিখে তদন্ত কর্মকর্তা কলেস্নাল গোস্বামী’র স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদন (যার স্মারক নং-৬০৬) তারিখ: ১৬ নভেম্বর,২০২০ইং-এ প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশে নানা অসংগতি রয়েছে। তিনি অসত্য,ভূয়া মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেন। এতে সাংবাদিক নূরম্নল ইসলাম সহ ঢুপী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির কে নেতৃবৃন্দ-কে হেয়প্রতিপন্ন এবং সামাজিক ভাবে তাদের মান-মর্যাদা ক্ষন্ন করার অপ্রচেষ্টা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশে তিনি পÿপ্রতিত্ত্ব মুলক আচরণ করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তার নোটিশ পাওয়ার পর তিনি ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করে অভিযোগের বিষয়ের সাথে তার সংশিস্নষ্টতা নেই বলে জানিয়েছিলেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং তারিখে বাদী-কে গালিগালাজ, ভয়ভীতি এবং হুমকির কথা প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই তারিখে কাটাগাং এলাকায় ঢাকার ব্যবসায়ী প্রতিষ্টান বিশ্বাস ট্রেডিং এন্ড কন্সট্রাকশনের সাথে ঢুপী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি সালিশ বৈঠক ছিল। এই বৈঠকে সিলেট জজ কোর্টের এডভোকেট আশিকুর রহমান,জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম,ঢুপী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হামিদ (পাখি), সহ-সভাপতি আব্দুস শুক্রুর,সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন, সদস্য মাহমুদ আলী,সমছুল ইসলাম, বিশ্বাস ট্রেডিং কন্সট্রাকশনের ২জন পরিচালক সহ এলাকার আরো কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তিগণের সাথে মধ্যস্থাকারী হিসাবে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে এসে উপস্থিত হন আব্দুর রউফ ও আবুল কাশেম আম্বিয়া। বৈঠকে বাদী আব্দুর রউফের সাথে সাংবাদিক নূরম্নল ইসলাম বা অন্যান্য বিবাদী পক্ষের কোন কথা হয় নাই। তদন্ত্ম কাজে তিনি প্রতিপক্ষের ধারা প্রভাবিত হয়ে সত্য ঘটনা কে আড়াল করার অপ্রচেষ্টা চালান। এতে করে প্রমানিত হয় যে একজন দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য হয়ে তিনি সঠিক ভাবে অনুসন্ধান না করে বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রভাবিত হয়ে বিবাদীগনের ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষন্ন করতে মনগড়া মিথ্যা তথ্য দিদয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ১৩নং কলামে উলেস্নখ করেছেন নুরুল ইসলাম ঢুপী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা সদস্য এবং ২২জুন,২০২০ইং তারিখে তার উপস্থিতিতে মসজিদের ভাড়া বাবত ৫০ হাজার টাকা সভাপতি কে দেয়া হয়েছে। টাকা আত্মসাৎ এবং বাদীর সাথে প্রতরণা ও ভয়ভীতি’র কথা বলা হয়েছে তা মিথ্যা ও অসত্য। মসজিদের ভাড়া বাবত ৫০হাজার টাকা প্রদানের বিষয়ে তিনি অবগত নয়। প্রতিবেদনে নিরপেক্ষ ৯জন সাক্ষির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে সালিশ বৈঠকে মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
এ ব্যাপারে নূরুল ইসলাম জানান, তিনি ঢুপী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা বা সদস্য পদে জড়িত নয়। ৫০ হাজার টাকা কখন দেয়া হয়েছিল এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে আমার ধারনা ২০০৭ সালের ৩ অক্টোবর ভোর রাতে সারীঘাট কাটাগাং এলাকায় আব্দুর রউফের মালিকানাধীন হাছনাত ষ্টোন ক্রাশার মিলে ঢুপী গ্রামের মৃত লুৎফুর রহমানের পুত্র এনাম আহমদ (৩৫)-নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃতু্যর ঘটনা ঘটে। এই মৃতু্যর ঘটনার সংবাদ তৎকালীন সময়ে সিলেটের স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। তখন স্থানীয় জনগন মনে করেছিলেন এনাম আহমদ-কে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছিল। ঘটনার সময়ে এনাম আহমদ, আব্দুর রউফ সহ এলাকার আরো কয়েকজন হাছনাত ষ্টোন ক্রাশার মিলে বসে মদপান করেন। তৎকালীন সময়ে হাছনাত ষ্টোন ক্রাশার মিলে মালিক আব্দুর রউফ সহ স্থানীয় কয়েকজনের যুবকের বিরম্নদ্ধে এনাম আহমদের মৃতু্যর ঘটনার সাথে তাদের সংশিস্নষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল। পরবর্তীতে জৈন্ত্মাপুর থানায় একটি অপমৃতু্য মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং-০১/২০০৭ইং, তারিখ ৩/১০/২০০৭ইং। তৎকালীন সময়ে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কারনে হয়ত বা আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে এসব ভূয়া মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে হয়রানির অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ