গোয়াইনঘাটে জলাশয় শুকিয়ে নির্বিচারে মৎস্য নিধন, হারিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রজাতির মাছ

প্রকাশিত: ১:২২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০২০

গোয়াইনঘাটে জলাশয় শুকিয়ে নির্বিচারে মৎস্য নিধন, হারিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রজাতির মাছ

গোয়াইনঘাটে জলাশয় শুকিয়ে নির্বিচারে মৎস্য নিধন, হারিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রজাতির মা
আসাদুল হক , গোয়াইনঘাট;
লোভী মৎস্য শিকারীরা সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার খাল-বিল, জলমহাল, হাওর ও জলাশয়গুলোর পানি সেচে পুরোপুরি শুকিয়ে ফেলে মাছ ধরছে। নির্বিচারে মৎস্য শিকারের ফলে মারা পড়ছে মা মাছ। এতে ব্যাহত হচ্ছে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন। বংশ বিস্তার করতে না পারায় বিলুপ্তির পথে দেশীয় অনেক প্রজাতির মাছ। মা মাছ নিধনের ফলে ভবিষ্যতে জলাশয়গুলো পুরোপুরি মাছ শূন্য হয়ে যাবে বলে আশংকা সংশ্লিষ্টদের।
বাংলা কার্ত্তিক-অগ্রহায়ণ মাস থেকে শুরু করে ফাল্গুন-চৈত্র পর্যন্ত জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে এ সময়টাতে মাছের জন্য একটি অভয়াশ্রম তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সরেজমিনে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, জলাশয়গুলোতে পানি কম থাকায় অনেক স্থানে স্থানীয়রা পাম্প মেশিন দিয়ে পানি সেচে শুকিয়ে মাছ শিকার করছে। এমনকি আধুনিক ঔষধ ব্যবহারের মাধ্যমে কাদার ভেতরে লুকানো মাছও ধরা হচ্ছে। উপজেলার অধিকাংশ জলমহাল শুকিয়ে মাছ ধরার মহা উৎসব চলছে—এমন অভিযোগ করে স্থানীয়রা জানান, ভয়ে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খুলেন না।
জলমহাল নীতিমালার আলোকে বাংলা সাল হিসেব করে বিভিন্ন শর্তে এসব জলমহাল বন্দোবস্ত দেয়া হয়। প্রতিবছর মাঘ ও ফাল্গুন মাসের মধ্যে জলমহালগুলোর মাছ আহরণ করে ইজারাগ্রহীতারা। মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী জলমহালগুলোতে তিন ফুট পর্যন্ত পানি রেখে মাছ ধরার বিধান রয়েছে। এছাড়া নীতিমালার ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদে পানি শুকিয়ে মাছ ধরা যাবে না বলে শর্ত রয়েছে। কিন্তু সরকারি বিল ইজারাদাররা শর্ত লংঙ্ঘনের পাশাপাশি মৎস্য সংরক্ষণ আইন অমান্য করে বিলের পানি শুকিয়ে মাছ ধরছে।
উপজেলার বিভিন্ন জলমহালে পাওয়ার পাম্প মেশিন বসিয়ে বিল সেচা হচ্ছে। গোয়াইনঘাট উপজেলা মৎস্য
কর্মকর্তা আহাম্মেদ কবির খান এই প্রতিবেদকে বলেন, বিল-জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরা বেআইনি। তাছাড়া এই পদ্ধতিতে মাছ ধরলে মাছের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এ বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।মৎস্য গবেষকেরা বলেছেন, বিল শুকিয়ে মাছ ধরার ফলে মাছের বংশবৃদ্ধির স্বাভাবিকধারা ব্যাহত হবে। মাছের বংশবৃদ্ধি না হলে মানুষ প্রোটিনের চাহিদা থেকে বঞ্চিত হবে। মাছের প্রজননের স্বার্থে মা-মাছগুলোকে অবশ্যই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।গোয়াইনঘাট উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ১৫৫ টি,জলমহাল রয়েছে। ২০ একরের ঊর্ধ্বে ৩৫টিএবং ২০ একরের নিচে ১২০টি জলমহাল রয়েছে।
গোয়াইনঘাটে হাওর, বিল শুকিয়ে মাছ নিধন করা হচ্ছে। এতে বিশাল আয়তনের বোরো জমি চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাকিব বলেন, বিলের পানি সেচ বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ