তাহিরপুর মাদ্রসায় লোকবল নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও বাণিজ্যের অভিযোগ :: দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের

প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০২০

তাহিরপুর মাদ্রসায় লোকবল নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও বাণিজ্যের অভিযোগ :: দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর হিফযুল উলুম আলিম মাদ্রসায় লোকবল নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ এনে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগের পর এবার নিয়োগ কমিটির উপর দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সিনিয়র স্পেশাল দায়রা জজ আদালতে দুর্নীতি দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন অত্র মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য বাচ্চু মিয়া।
গতকাল সোমবার বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) প্রেরণ করেন।

জানা যায়, তাহিরপুর হিফযুল উলুম আলিম মাদ্রসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম নিজেই নিয়োগ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হয়ে প্রভাব খাটিয়ে তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তারকে হিসাব রক্ষক পদে ও তার ভাই শরীফুল ইসলামকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদান করে। এ দু,টি পদ ছাড়াও অপর আরো ৪টি পদে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করার অভিযোগ উঠে।

মামলায় উল্লেখিত বিবরন ও একাধিক নিয়োগ প্রার্থী সুত্রে জানা যায় ,গত ২৭ অক্টোবর ২০২০ইং তারিখে তাহিরপুর হিফযুল উলুম আলিম মাদ্রসার ৫টি পদে লোকবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল। উপজেলা ও জেলাকে পাশ কাটিয়ে সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসায় গোপনে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল শেষে স্ত্রী ও ভাইকে মাদ্রসায় নিয়োগ দেয়ার পর স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন আইনে দায়েরকৃত মামলা ছাড়াও মাদ্রসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে আন্তজাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের যুদ্ধচলাকালীন সময়ে টেকেরঘাট সাব-সেক্টরে শহীদ হওয়া সিরাজ হত্যাকান্ডের ঘটনায় আরো একটি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
মাদ্রাসার লোকবল নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত“ যুদ্ধাপরাধী মামলার আসামীর বির”দ্ধে এবার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ” তাহিরপুরে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যে মাদ্রাসায় নিয়োগ” এমন শিরোনামে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরপরেই নিয়োগ বাণিজ্য সহ আমিনুল তার স্ত্রী ও চাচাতো ভাইয়ের চাকরি ঠিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাপ শুরু করেন।

নিয়োগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া জানান, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির স্ত্রী ও ভাইকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি কি স্বজনপ্রীতি নয় ? আমি এ বিষয়ে অভিযোগ করায় , আমিনুল ও তার সিন্ডিকেট আমার পিছু ছাড়ছেনা।

নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ পরীক্ষার্থী সাইদুর রহমান অপু জানান, অভিযোগের পরপরই আমিনুল ও তার সিন্ডিকেট আমাকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

মাদ্রাসার লোকবল নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন আইনে দায়েরকৃত মামলার বাদী ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য বাচ্চু মিয়া জানান, মাদ্রাসার দু,টি পদে আমিনুল তার নিজের স্ত্রী ও ভাইকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি অবশ্যই স্বজনপ্রীতি। আমি পরিচালনা কমিটির সদস্য হলেও নিয়োগ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে আমাকে অবগত করা হয় নি। অথচ নিয়োগ কমিটিতে আমিনুল ইসলাম সভাপতি হলেও তার অপর আরেক ভাইকে রাখা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: আব্দুল আহাদ বলেন, তাহিরপুর মাদ্রাসায় লোকবল নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের বিষয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় সাংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন,মাদ্রাসায় লোকবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষাটি সিলেট বিভাগীয় শহরে না নিয়ে স্থানীয়ভাবে বা সর্বোচ্ছ জেলা পর্যায়েই নেয়া যেত।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ