একজন মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী সাহেব এবং আমাদের চিন্তা ও কর্মের দৈন্যতা — আবদুর রহমান হোসাইনী

প্রকাশিত: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২১

একজন মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী সাহেব এবং আমাদের চিন্তা ও কর্মের দৈন্যতা — আবদুর রহমান হোসাইনী
প্রাক কথন
আমি প্রচলিত কোনো পলিটিক্যাল পার্টির সাথে সম্পৃক্ত নই। আমি প্রাতিষ্ঠানিক পড়া-লেখা শেষ করেছি বাংলাদেশের প্রখ্যাত মুফাসসির, মুফতি,শায়খুল হাদিস, আল্লামা দিলাওয়ার হোসাইন সাহেবের কাছে। আল্লামা মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন সাহেবের চিন্তা-চেতনা ও দর্শন এবং শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুফতি তাকী উসমানী সাহেবের চিন্তা-চেতনা ও দর্শনকে আমি লালন করি, ধারণ করি ; বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। এবার আসি মূল কথায়।
এক. কুরআনিক ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী দাওয়াতের সঠিক পন্থা হলো-
কুরআন,সুন্নাহ’র নীতি এবং সাহাবায়ে কেরামের পদ্ধতি অনুসরণ করে হিকমাহ’র সাথে ‘দাওয়াত ইলাল্লাহ’ এর কাজ করা।এগুলো বাদ দিয়ে নিজের মন মতো দাওয়াতের কাজ করলে সেটা বাস্তবিক অর্থে ‘দাওয়াত ইলাল্লাহ’ এর কাজ হয় না, বরং অন্য কিছু হয়। তাছাড়া কুরআন,সুন্নাহ’র নীতি এবং সাহাবায়ে কেরামের পদ্ধতি বাদ দিয়ে মন মতো দাওয়াতের কাজ করলে সেটার দ্বারা উপকারের থেকে অপকারই বেশি হয় এবং সমাজে দেখা দেয় সমূহ বিশৃঙ্খলা – যা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে অনায়াসে ফাটল সৃষ্টি করে।
দুই. কেউ কোনো মাসআলায় ভুল করার কারণে চক্রান্ত করে তাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া-কখনোই সমর্থন করি না। কুরআন-সুন্নাহর রুলস অনুযায়ী ভুলের সংশোধন করাটাকেই আমি সঠিক সমাধান মনে করি।
তিন. আজহারী সাহেব এবং জনগণের কাছে সমাদৃত অন্যান্য বক্তাদের কারণে যখন ইসলামবিদ্বেষী পাড়ায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে, যখন মধ্যরাতের দুষ্কৃতকারীরা এসব বক্তাদের বয়ান বন্ধ করার জন্য টকশোতে বসে ‘শব্দ বোমা’ নিক্ষেপ করছে, যখন ইসলামবিদ্বেষী ঘরানার সকল লোক একমত হয়ে তাদের মাহফিল বন্ধ করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে, তখন স্থুলবুদ্ধির অধিকারী একজন মূর্খ ব্যক্তিও বুঝতে পারে যে, এসকল বক্তা ইসলামের পক্ষের শক্তি, না বিপক্ষের শক্তি।
চার. কেউ কোনো ভুল করলে কুরআন-সুন্নাহর রুলস ফলো করে এভিডেন্সের সাথে তার ভুল প্রমাণ করুন।কুরআন-সুন্নাহর স্বতঃসিদ্ধ রুলস ফলো না করে এভিডেন্স ছাড়া কথা না বলা জরুরী।কারণ কুরআন-সুন্নাহর স্বতঃসিদ্ধ রুলস ফলো না করে এভিডেন্স ছাড়া কতক্ষণ উঁচু আওয়াজে কথা বলার দ্বারা নিজে তৃপ্তিবোধ করলেও অন্যকে তৃপ্তি দেওয়া যায় না। বরং হিতে বিপরীত হয়।
পাঁচ. এখনো এমবি দিয়ে ফেসবুক চালায়, ডেইটা বলতে শিখেনি। নিজের ঘরের সকলের খোঁজখবর রাখতে পারে না।ডেমোক্রেট ব্লক ও রিপাবলিকান ব্লক উচ্চারণ করতে শিখেনি।এখনো মুখ থেকে মায়ের দুধের গন্ধ শুকায়নি – এরকম লোক যদি আল্লামা মামুনুল হক সাহেব এবং এপর্যায়ের কারো ভুল ধরার জন্য ‘ফেসবুকি গবেষক’ বনে যায়, তখন তাদের প্রতি করুণা করা ছাড়া কিছু করার থাকে না।তবে তাদের (তারা যে ঘরানারই হোক) বড়দের প্রতি আকুল আবেদন করবো,এদের লাগাম এখনই টেনে ধরুন।নইলে সমূহ বিপদের সম্মুখীন হতে হবে।কারণ বানর একবার মাথায় উঠলে পরে নামানো মুশকিল।
ছয়. ইত্তেহাদ মাআল ইখতেলাফ’ এর নীতিতে আমি বিশ্বাসী।মতভেদ থাকতেই পারে।তবে সে মতভেদ যেন আমাদের বিভেদের কারণ না হয়।
সাত.একবার বাদশাহ আকবর তার প্রধান সেনাপতিকে নিয়ে সফরে বের হলেন।পথিমধ্যে বাদশাহ আকবর তরবারি দিয়ে জমিনে একটি দাগ টেনে প্রধান সেনাপতিকে বললেন, এ দাগটিকে স্পর্শ না করে ছোট করে দেখাও।
প্রধান সেনাপতি বাদশাহ আকবের টানা দাগ থেকে দীর্ঘ আরেকটি দাগ টানলেন।এতে করে বাদশাহ আকবরের টানা দাগ অটোমেটিকলি ছোট হয়ে গেলো।
মোরাল অফ দ্যা স্টোরি :
অন্যকে আঘাত না করেও বড় হওয়া যায়।নিজে বড় হয়ে যান, অন্যরা অটোমেটিকলি ছোট হয়ে যাবে।
মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী, ঢাকা
সিলেট রেলস্টেশন, ঢাকায় আসার জন্য অপেক্ষমাণ
৮/১/২০২১ ইংরেজি, বিকাল ৩ টা ৩৩ মিনিট।
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ