ভালোবাসা দিবসঃ বেহায়াপনা আমদানির মহোৎসব ………….আবদুর রহমান হোসাইনী

প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১

পৃথিবী নামক গ্রহটি মায়া ও ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। যদি মায়া ও ভালোবাসা না থাকতো, তাহলে পৃথিবী নামক এই গ্রহ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যেতো।তাই বলে কি সব ভালোবাসা কল্যাণকর ? কখনোই না।
কিছু কিছু ভালোবাসা ধ্বংসেরও কারণ।

ভালোবাসা দিবসের সূচনাঃ
এক. কারো কারো মতে ভ্যালেন্টাইন একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি এক অন্ধ মেয়েকে চিকিৎসা করা অবস্থায় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের কারণে রোম সম্রাট ক্লডিয়াসের নির্দেশে ২৬৯ /২৭০ ইংরেজিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মারা যাওয়ার পূর্বে তিনি অন্ধ মেয়েটিকে বিদায় জানিয়ে একটি চিরকুট লেখে রেখে গিয়েছিলেন। তাতে লেখা ছিলো- from your Valentine- ইতি তোমার ভ্যালেন্টাইন।
মেয়েটি চিরকুটের ভেতরে বসন্তের হলুদ ফুলের আশ্চর্য সুন্দর রং দেখতে পেয়েছিলো। কারণ ইতিমধ্যে ভ্যালেন্টাইনের চিকিৎসায় অন্ধ মেয়েটি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছিলো। ভালোবাসার এসব কীর্তির জন্য ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ জেলাসিয়ুস ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখকে ভ্যালেন্টাইনস ডে ঘোষণা করেন। সেই থেকে মানুষ এই দিনটি পালন করে আসছে।
দুই. কারো কারো মতে ‘জুনো’ নামক দেবীকে রুমের অধিবাসীরা প্রেম ও নারীর দেবী বলে বিশ্বাস করতো। রুমে ‘জুনো’ দেবীর সম্মানার্থে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়েছিলো। প্রেমের দেবীকে ঘিরে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছুটির দিন ঘোষণা করা থেকেই ভালোবাসা দিবসের সূচনা।

তিন.কারো কারো মতে ২৬৯ সালে সম্রাট ক্লডিয়াস সব ধরণের বিবাহ-শাদী ও টুগেদারকে নিষিদ্ধ করেন। এক্ষেত্রে তার অজুহাত ছিলো- অবিবাহিত সেনারা যুদ্ধের মাঠে চরম সাহসের সাথে যুদ্ধ করে।অপরদিকে বিবাহিত সেনারা সেরকম সাহস দেখাতে পারে না। পাশাপাশি স্ত্রীদেরকে রেখে যুদ্ধে যেতে তারা তেমন একটা আগ্রহ দেখায় না। কিন্তু সম্রাট ক্লডিয়াসের অনেক সেনার প্রয়োজন ছিলো।
অথচ বিবাহ করার অজুহাতে কিংবা বিবাহ পরবর্তী স্ত্রীকে সময় দেওয়ার অজুহাতে অনেক সৈন্যই যুদ্ধে যেতে চাইতো না।আর গেলেও বেশিদিন থাকতে চাইতো না। আবার যুদ্ধের ফ্রন্টে থাকলেও পরিপূর্ণ আগ্রহের সাথে যুদ্ধ করতো না।এসব কারণে তিনি বিবাহ নিষিদ্ধের মতো জঘন্যতম অমানবিক আইনটি করেন। এ আইনের কারণে যুবক-যুবতীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সে সময়কার যুবক, ধর্মযাজক ভ্যালেন্টাইনও বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারেননি। এ জন্য তিনি এ আইনের বিরুদ্ধাচরণ করেন এবং তিনি নিজে মারিয়াস নামক একটি মেয়েকে বিবাহ করেন।তিনি শুধু এখানে ক্ষ্যান্ত হননি, বরং গোপনে গির্জার অন্যান্য ধর্মযাজকদেরও বিয়ে পড়াতে থাকেন।বিষয়টি সম্রাটের কাছে পৌঁছলে ১৪ ফেব্রুয়ারি সম্রাট ভ্যালেন্টাইনকে হত্যার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে ভ্যালেন্টাইনের ভালোবাসার স্মরণে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসের সূচনা হয়।

বাংলাদেশ ভালোবাসা দিবসের সূচনাঃ
বাংলাদেশে ১৯৯৩ সালে ‘যায় যায় দিন’ পত্রিকায় প্রথম ভালোবাসা দিবস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। সে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম এ দিবসের আত্মপ্রকাশ ঘটে। বাংলাদেশে এ দিবসটির প্রবর্তক হলেন পাশ্চাত্য সভ্যতায় প্রভাবিত সাংবাদিক শফিক রেহমান।প্রথম দিকে বাংলাদেশিরা এ দিবসটির প্রতি আগ্রহ না দেখালেও পরবর্তীতে যুবক-যুবতীরা এ দিবসটির প্রতি চরমভাবে আকর্ষিত হয় এবং তারা এ দিবসটি পালনে মরিয়া হয়ে উঠে।

ভালোবাসা দিবস উদযাপনের পদ্ধতিঃ
এক সময় ভালোবাসা দিবসকে গির্জা পরিষেবার মাধ্যমে উদযাপন করা হতো। কিন্তু বর্তমানে তাতে ভোগের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে।ভালোবাসা দিবসে যুবক-যুবতীদের অবাধ মেলামেশা, নাচ-গান, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, বেলেল্লাপনা, সংস্কৃতির নামে বেহায়াপনা আমদানি, লিভটুগেদার,রেপ, গ্যাং রেপ ও হত্যাসহ হেন কোনো কুকর্ম নেই – যা হয় না।
বর্তমানে ভালোবাসা দিবসের বেহায়াপনা ও বেলেল্লাপনা এতই চরমে পৌঁছেছে যে, ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন ধরণের বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা শুরু হয়ে যায়।
চলুন, সে আয়োজনগুলোতেও একটু নজর বুলিয়ে নেই।
১) ৭ ফেব্রুয়ারি রোজ ডে বা গোলাপ দিবস। এ দিবসে ফুল আদান-প্রদান করা হয়।
২) ৮ ফেব্রুয়ারি প্রপোজ ডে বা প্রস্তাব দিবস। এ দিবসে ভালবাসার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
৩) ৯ ফেব্রুয়ারি চকলেট ডে বা চকলেট দিবস।এ দিবসে চকলেট উপহার দেওয়া হয়।
৪) ১০ ফেব্রুয়ারি টেডি ডে বা পুতুল দিবস।এ দিবসে ভল্লুকের বাচ্চা সদৃশ পুতুল উপহার দেওয়া হয়।
৫) ১১ ফেব্রুয়ারি প্রমিজ ডে বা কথা দেওয়ার দিবস।এ দিবসে ভালোবাসার কথা ফাইনাল করা হয়।
৬) ১২ ফেব্রুয়ারি কিস ডে বা চুম্বন দিবস। এ দিবসে একে অপরকে কিস দেয়।এ কিসকে ভালবাসার প্রথম নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
৭) ১৩ ফেব্রুয়ারি হাগ ডে বা আলিঙ্গন দিবস।এ দিবসে আন্তরিকতা প্রদর্শনপূর্বক একে অপরকে বুকে জড়িয়ে রাখে।
৮) ১৪ ফেব্রুয়ারি ভেলেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবস।এ দিবসে চূড়ান্ত ভালোবাসা প্রদর্শন করা হয়।
৯) ১৫ ফেব্রুয়ারি স্লাপ ডে বা চড় মারা দিবস। এ দিবসে ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার জন্য শত্রুকে বাধা প্রদান করা হয়।
১০) ১৬ ফেব্রুয়ারি কিক ডে বা লাথি মারা দিবস। ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার জন্য শত্রুকে শক্তভাবে বাধা দেওয়া।
১১) ১৭ ফেব্রুয়ারি পারফিউম ডে বা সুগন্ধি দিবস। সুগন্ধি ব্যবহার করে এ দিবসে একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে।
১২) ১৮ ফেব্রুয়ারি ফ্লাটিং দিবস বা অতিরিক্ত ভালোবাসা দেখানো। অর্থাৎ কৃত্রিমতার আশ্রয় নিয়ে হলেও এ দিবসে অধিক ভালোবাসা দেখাতে হয়।
১৩) ১৯ ফেব্রুয়ারি কনফেনশন ডে বা স্বীকারোক্তি দিবস। এ দিবসে বাসায় গিয়ে অভিভাবকের কাছে ভালোবাসার কথা স্বীকার করা হয়।
১৪) ২০ ফেব্রুয়ারি মিসিং ডে বা হারানো দিবস। যদি বাসা থেকে ভালোবাসাটা মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে এ দিবসে ভালোবাসা ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১৫) ২১ ফেব্রুয়ারি ব্ল্যাক ডে বা ভাঙ্গা দিবস। এ দিবসে একে অপরকে জানিয়ে চূড়ান্তভাবে ভালোবাসা ভেঙ্গে ফেলে।
২১ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা ভেঙ্গে ফেললে কি হবে? ভাঙ্গার আগেই যে কতো তরুণী নিজের ভার্জিনিটি হারায়-সেটার কোনো হিসেব আছে? কতো তরুণী ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে অন্যের বোঝা নিজের পেটে বহন করে বেড়ায়-সেটার কোনো খবর আছে ?
প্রিয় পাঠক ! এ হলো ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে সমাজে সৃষ্ট অশ্লীলতার কিছু দৃষ্টান্ত।চোখের আড়ালে যে আরো কতো কিছু হয়, সেটা আমরা না জানলেও মহান আল্লাহ অবশ্যই ভালো জানেন।
ভালোবাসা দিবসের অনিষ্ট সর্বজনবিদিত।যে কারণে ১৭৭৬ সালে ফ্রান্সে এবং পিউরিটানদের ক্ষমতাকালে ইংল্যান্ডে ভালোবাসা দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।তাছাড়াও অষ্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে ভালোবাসা দিবসকে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

ভালোবাসা দিবস একসময় যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তা মুসলিম দেশ গুলোতে ঢুকে পড়েছে। মুসলিম তরুণ-তরুণীরা ইতিহাস না জেনে, সংস্কৃতি নাম দিয়ে বিধর্মীদের এই অনুষ্ঠানকে দেদারছে পালন করে যাচ্ছে। যা ইতিহাস সম্পর্কে মুর্খতা ও ধর্মহীনতার পরিচায়ক।

ভালোবাসা দিবসের নামে মুসলিম ছেলে-মেয়েরা যেভাবে অশ্লীলতায় মেতে উঠে, তা দেখলে গা শিউরে ওঠে। ভালোবাসা দিবস পালনের আগে তারা একটি বারও ভেবে দেখার প্রয়োজন মনে করে না যে, এটি আমাদের জন্য, না বিধর্মীদের জন্য?

ভালোবাসা দিবসে মেয়েদের ভার্জিনিটি হারানোর সংবাদ পত্রিকা মারফত অহরহ শোনা যায়।আবার কোনো কোনো মেয়েকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে রাখা হয় পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য-এরকম সংবাদও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।এসব দেখার-শোনার পরেও কেন আমাদের বোধোদয় হচ্ছে না? অন্তত মুসলিম জাতি হিসেবে আমাদের এমনটা হওয়ার কথা ছিলো না।

ভালোবাসা দিবস আসলে আমাদের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে এক ধরণের উম্মাদনা দেখা যায়। এর পেছনে যতটা- তারা নিজেরা দায়ী, তার চেয়ে বেশী দায়ী তাদের অভিভাবকগণ। একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক কখনো তার অধীনস্থদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে না। আর যদি কোনো অভিভাবক এমন করে, তাহলে সে অভিভাবক হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। এজন্য অভিভাবকদের সতর্ক হতে হবে। সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। যাতে তাদের অধীনস্থ ছেলেমেয়েরা ভালোবাসা দিবস নামক বিশ্ব বেহায়া দিবসের সাথে কোনোভাবে জড়িয়ে না পড়ে।

সর্বোপরি একজন মুসলিম ইসলামের দিক বিবেচনা না করে কখনো কোনো দিবস পালন করতে পারে না। ইসলামের ছাঁকুনিতে ছেঁকে সবকিছু দেখা একজন মুসলিমের প্রথম দায়িত্ব। ইসলামের ছাঁকুনিতে ছেঁকে দেখার পর সে কোনো কিছু গ্রহণ করবে, বর্জন করবে। কিন্তু আজ আমরা সে দিকটি বেমালুম ভুলে গেছি। মহান আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। এছাড়াও ভালোবাসা দিবস বাঙালি সংস্কৃতির সাথে একদমই যায় না।এই দিক বিবেচনায়ও ভালোবাসা দিবস পালন করার কোনো যুক্তিকথা নেই ।

ভালোবাসা দোষের কিছু নয়। ভালোবাসা খারাপ কিছু নয়।কেউ কাউকে ভালোবাসতেই পারে। তবে সে ভালোবাসা হতে হবে লৌকিকতা মুক্ত এবং শরীয়ত সমর্থিত।

যে কারণে একজন মুসলিম ভালোবাসা দিবস সমর্থন করতে পারে নাঃ
১)এটি খ্রিস্টানদের একটি উৎসব। এ কারণে ক্যাথলিক গির্জা কর্তৃক ১৪ফেব্রুয়ারি এটির তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আর অর্থডক্স গির্জা কর্তৃক ভেলেন্টাইনস ডে পালনের নির্দিষ্ট তারিখ হলো ৭ জুলাই।
২) ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন করা হয় (দ্বিতীয় মত অনুযায়ী)রোমান দেবী ‘জুনো’র সম্মানার্থে। কিন্তু ইসলামে কোনো দেব-দেবী নেই।সো মুসলিমদের জন্য কোনো দেবীর সম্মানার্থে কোনো দিবস পালন করার প্রশ্নই উঠে না। আর যদি কেউ মনে করে যে, ইসলামে দেব-দেবী রয়েছে, তাহলে তার ঈমান থাকবে না। কারণ এটা মহান আল্লাহর সঙ্গে স্পষ্ট শিরক।

৩)ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন করা হয় ( তৃৃতীয় মত অনুযায়ী) ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগ স্বরনার্থে ।কারণ সে সম্রাট ক্লডিয়াসের “বিবাহ নিষিদ্ধ” আইনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছিলো। কিন্তু ইসলামে কখনো বিবাহ নিষিদ্ধ ছিলো না ; কিংবা এটার জন্য কাউকে জীবন দিতে হয়নি। সো কোনো মুসলিম এটা পালন করতে পারে না।

৪) চিকিৎসক ভ্যালেনটাইন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার অপরাধে (প্রথম মত অনুযায়ী) তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও তিনি মানুষকে খুব ভালোবাসতেন।তার এসব কীর্তির জন্য ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখেকে ভ্যালেন্টাইনস ডে ঘোষণা করা হয়।

এখন যদি কোনো মুসলিম চিকিৎসক ভ্যালেন্টাইন এর কীর্তির স্মরণে ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন করে, তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায়-সে ইসলামধর্ম থেকে খ্রিস্টধর্মকে বেশি ভালোবাসে এবং মুসলিম হওয়া থেকে খ্রিস্টান হওয়াকে বেশি পছন্দ করে। আর এটা সম্পূর্ণ কুফুরি।
৫) এটি একটি বিজাতীয় সংস্কৃতি। কোনো মুসলিম বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুসরণ করতে পারে না।
৬) ভালোবাসা দিবস অবৈধ যৌনাচার,বেহায়াপনা ও অসভ্য আচরণের মাধ্যম। যা ইসলাম কখনই সমর্থন করে না।
৭) এ দিবসের কারণে মানুষ অসংখ্য পাপাচারে লিপ্ত হয়।
৮) ইসলামে বিবাহ বহির্ভূত ছেলে-মেয়েদের পরস্পরে প্রেম-ভালোবাসা নাজায়েজ।

এছাড়াও ভালোবাসা দিবসের আরো অনেক দিক নিয়ে উপরে আলোচনা করা হয়েছে।যেগুলো ভালোবাসা দিবস পালনে শুধু মুসলিমদের জন্যই প্রতিবন্ধক নয়, বরং প্রতিটি সচেতন মানুষের জন্যও প্রতিবন্ধক।

পরিশেষে বলব-
শোনো হে তরুণ -তরুণী! নূপুরের ঝংকার, সুর ও সুরার হাতছানি তোমার জন্য নয়, ভালোবাসা দিবস উদযাপন, ফুল ও ফুলতোড়া আদান-প্রদান তোমার জন্য নয়, পার্কে বা রাস্তায়, মাঠে-ময়দানে সাথী নিয়ে ঘোরা এবং ভালোবাসার গান শোনা তোমার জন্য নয়, তলোয়ারের ঝংকার তোমার জন্য, জিহাদের ময়দানে সিনা টানটান করে দাঁড়ানো তোমার জন্য, মৃত্যুর নিত্য এবং শাহাদাতের সংগীত তোমার জন্য।

আবদুর রহমান হোসাইনী
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ইংরেজি
বিকেল চারটা একুশ মিনিট
জামিয়া শায়খ যাকারিয়্যা ঢাকা

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ