বাঁচানো গেলো না তাহসানকেও

প্রকাশিত: ৪:১১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১

বাঁচানো গেলো না তাহসানকেও

ডেস্ক রিপোর্ট

সিলেট শহরতলির শাহপরাণ (রাহ.) থানাধীন খাদিমপাড়ায় সৎভাইয়ের ছুরির আঘাতে আহত শিশু তাহসানের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ বছর বয়সী তাহসানের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সৎভাইয়ের নৃশংসতার শিকার হয়েছিলো। হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই তাহসানের মা রুবিয়া বেগম (৩০) ও বড় বোন জান্নাতুল মাহার (৯) মৃত্যু হয়। খাদিমপাড়া বিআইডিসি সংলগ্ন বহর আবাসিক এলাকার মীরমহল্লায় ঘটা এ হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পুলিশ ঘাতক তরুণ আবাদ হোসেনকে (২২) তাৎক্ষণিক আটক করে। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরান থানায় মামলা (নম্বর-১৮) দায়ের করেছেন নিহত রুবিয়া খানের ভাই আনোয়ার হোসেন। ঘাতক আবাদ শুক্রবার রাত পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতেই ছিলেন। আজ তাকে আদালতে তোলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন শাহপরান থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার এসআই ইবাদুল্লাহ জানান, মামলায় আবাদ খান ও তার মা সুলতানা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আবাদ সব সময় সব সময় তার সৎমা রুবিয়া বেগমের সাথে খারাপ আচরণ করত। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সে রুবিয়া বেগম ও তার দুই সন্তানকে হত্যা করেছে।
তবে পুলিশের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে আবাদের ভাষ্য, তার সৎ মা রুবিয়া বেগাম তার সাথে ভালো আচরণ করতেন না। ঠিকমতো খেতেও দিতেন না। পোশাক-আশাক টাকাপয়সা কিছুই সে পত না। বঞ্চনা থেকেই ক্ষোভের জন্ম হওয়ায় সে সৎ মা ও ভাই বোনদের হত্যা করেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে খাদিমপাড়া বিআইডিসি সংলগ্ন বহর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মুদি আবদাল হোসেনের ছেলে আবাদ হোসেন ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তার সৎ মা রুবিয়া বেগম ও বোন মাহাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সৎভাই তাহসানকে। আবাদ তখন ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে বিছানায় আগুনও ধরিয়ে দেয়। শাহপরান থানা পুলিশ দরজা ভেঙে আটক করে আবাদকে এবং মৃতদেহ দুটি ও আহত শিশুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঠায়। ঘাতক আবাদ হোসেন আবদাল হোসেন খানের প্রথম স্ত্রী সুলতানা বেগমের ছেলে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ